সমকালীন প্রতিবেদন : নস্টালজিয়া আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে এক নতুন ইতিহাসের পথে হাঁটছে ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্স। আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সঙ্গে পাল্লা দিতে এবার দর্শকাসন সংখ্যা বিপুল হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল। বর্তমানে ইডেনের ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৭ হাজার, যা সংস্কারের পর বেড়ে দাঁড়াবে ৮৫ হাজারে। অর্থাৎ, অতিরিক্ত ১৮ হাজার দর্শক প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটানোর সুযোগ পাবেন।
বিগত কয়েক বছরে বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল বা হাই-প্রোফাইল ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে আমেদাবাদ এগিয়ে থাকছে তার বিশাল দর্শকাসনের কারণে, যেখানে আসন সংখ্যা ১ লক্ষ ৩২ হাজার। মেলবোর্নেও ১ লক্ষ দর্শক খেলা দেখতে পারেন। ইডেনকে সেই সারিতে নিয়ে আসতেই এই কর্মযজ্ঞ। সিএবি সূত্রে খবর, আইপিএল ২০২৬ শেষ হওয়ার পরপরই এই সংস্কার কাজ শুরু হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার। এই মেগা প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সিএবি-র ডাকা টেন্ডারে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ইডেনকে কেবল একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নয়, বরং একটি ‘মাল্টি-পারপাস স্পোর্টস’ কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আধুনিকতম সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই স্টেডিয়ামে খেলাধুলো ছাড়াও অন্যান্য অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঐতিহ্যের খাতিরে গ্যালারির বি, সি, কে, এল ব্লক এবং নবনির্মিত ক্লাব হাউসটি অক্ষত রাখা হবে। বাকি অংশগুলিতেই আসন সংখ্যা বাড়ানোর কাজ চলবে।
সংস্কারের দায়িত্ব পেতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অত্যন্ত কড়া ধাপ পার করতে হবে। সংস্থাকে আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার তিনটি বড় মাপের সংস্কার কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ মার্চ। ১৬ মার্চ খোলা হবে টেকনিক্যাল প্রস্তাব। এখানে ১০০ নম্বরের মধ্যে অন্তত ৪৯ নম্বর পেলে তবেই সেই সংস্থার আর্থিক প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে। কাজ শুরুর ১৮ মাসের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু ইডেন নয়, বাংলার ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হাওড়ার ডুমুরজলায় তৈরি হচ্ছে ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’। ৮.৯৪ একর জমিতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সটি নির্মিত হবে। এখানে থাকছে ৬টি ইনডোর এবং ১২টি আউটডোর পিচ। প্রশিক্ষণের জন্য ভিডিও অ্যানালিসিস রুম, স্পোর্টস সায়েন্স সেন্টার এবং অত্যাধুনিক জিম।
পাশাপাশি, রিহ্যাব রুম, সুইমিং পুল এবং খেলোয়াড়দের থাকার জন্য ৫২টি আধুনিক কক্ষের সুবিধা থাকবে। ফ্লাডলাইট সমৃদ্ধ ২ হাজার দর্শকাসনের একটি পৃথক স্টেডিয়াম তৈরি হবে। সব মিলিয়ে ইডেনের সংস্কার এবং ডুমুরজলার এই প্রকল্প বাংলার ক্রিকেট পরিকাঠামোকে বিশ্বের প্রথম সারিতে নিয়ে আসবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৭ সালে এক নতুন, আধুনিক ইডেন দেখার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন