Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পুজোর কেনাকাটার জন্য কোন বাজারকে ‌আপনি বেছে নেমেন? দেখে নিন এক ঝলক

 ‌

Puja-shopping

সমকালীন প্রতিবেদন : দোরগোড়ায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। তাই কেনাকাটার তোড়জোড়ও কিছু কম নয়। সারাবছর অনলাইনে কেনাকাটা করলেও পুজোর আগে জিনিস হাতে নিয়ে পরখ করে দরদাম করার লোভ অনেকেই ছাড়তে পারেন না। তাই সামান্য ফিকে হলেও, শহরের ঐহিত্যবাহী শপিং বাজারগুলিতে ভিড় হয় নজরকাড়া। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার অলিতে গলিতে ছড়িয়ে আছে এমনই কিছু দোকান, বাজার। আজ আপনাদের নিয়ে যাবো তেমনই কিছু জায়গায়, কেনাকাটা করতে যেখানে এখনও না গিয়ে থাকলে বড় মিস করেছেন। 

ঐতিহ্যের হাতিবাগান 

উত্তর কলকাতার নস্টালজিয়া। যেখানে ঢুকলেই চোখ থাকতে হবে একদম সজাগ। কোনও কিছু মিস করলে চলবে না। কারন হাতিবাগান মার্কেট মানেই ফুটপাতের দু-দিকে সারি সারি দোকান। কী নেই সেখানে ! পোশাক থেকে হালফিলের গয়না, মেকআপের জিনিস থেকে গৃহস্থলীর নানান সরঞ্জাম, সবমি‌লিয়ে হাতিবাগান জমজমাট। আর সবটাই সাধ্যের মধ্যে। দরাদরি না করে এখান থেকে জিনিস কিনতে মন চাইবে না। তাই একবার হাতিবাগান মার্কেটে ঢুকে পড়লে পছন্দের জিনিস না কিনে ফেরাও চলবে না। 

উত্তর কলকাতার বাজার শ্যামবাজার 

উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার আজও তার স্ব-মহিমায় উজ্জ্বল। এখানকার শাড়ি এবং পোশাক নজরকাড়া। এখানকার পোশাকে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক সুন্দর মেলবন্ধন চোখে পড়ে। উত্তর কলকাতার মানুষের জন্য শ্যামবাজার কেনাকাটার এক আদর্শ ঠিকানা। পুরনো কলকাতার গন্ধ এখনও এখানকার বাতাসে মিলেমিশে একাকার। তাই উত্তর কলকাতার অনেক মানুষ পুজোর কেনাকাটা করার জন্য বেছে নেন শ্যামবাজারকে। 

কলকাতার প্রাচীনতম নিউ মার্কেট 

নিউ মার্কেটের দুটি অংশ। পুরনো এবং নতুন অংশ মিলিয়ে এই বাজারের দোকানগুলিতে পোশাক, জুতো, ব্যাগ, গয়না সহ বিভিন্ন ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। মার্কেটের ভেতরে এবং বাইরের অংশেও প্রচুর জিনিস কেনার সুযোগ রয়েছে। হালফিলের সব স্টাইলিশ পোশাক কিনতে চাইলেও এই মার্কেট এবং তার আশেপাশের মার্কেটগুলির জুড়িমেলা ভার। তবে দরদাম করতে হবে গুছিয়ে। একটা সময় ছিল যখন এটি কলকাতার অভিজাতদের কেনাকাটার জায়গা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সব ধরনের ক্রেতারাই এখানে আসেন।  

দক্ষিণের সম্রাট গড়িয়াহাট 

উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণের সবসময়ই একটা প্রতিযোগিতা চলে। সে দুর্গাপুজোয় কারা সেরা তা নিয়ে হোক বা পুজোর সেরা পোশাক। সেদিক থেকে দেখতে হলে দুর্গাপুজোর সেরা পোশাক শাড়ির সম্ভার যদি দেখতে হয়, তাহলে গড়িয়াহাট বাজার যেতেই হবে। মোটামুটিভাবে বালিগঞ্জ রেল ব্রীজ ছাড়ালেই শুরু হয়ে যায় গড়িয়াহাট মার্কেট। রাস্তার দু-ধারে শাড়ির দোকান। যেখানে কম বাজেট থেকে হাই বাজেট সব ধরনের শাড়ি মেলে, সঙ্গে জুতো, জামা তো রয়েইছে। আর মেলে শাড়ির সঙ্গে মানানসই নানান ধরনের গয়না। শহর তো বটেই, শহরতলির মানুষও এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। দাম নিয়ে দরাদরি এই বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়। 

দক্ষিণের বাজার বেহালা 

এটি দক্ষিণ কলকাতার স্থানীয় বাজার হলেও, যেকোনও বড় বাজারের সঙ্গে টক্কর দিতে প্রস্তুত। স্টাইলিশ পোশাক, শাড়ি, জুতো, গয়না, ছোটদের পাশাক সবই মিলবে বেহালা বাজারে। তাই যারা নিউমার্কেট, ধর্মতলা বা গড়িয়াহাট যেতে সময় পাচ্ছেন না, তারা বেহালা বাজার থেকে পুজোর কেনাকাটা অনায়াসে করতে পারেন। 

পাইকারি বাজার বড়বাজার 

বড়বাজার মানেই পাইকারি বাজার। তবে তার মানে এই নয় যে খুচরো ক্রেতারা বড়বাজার থেকে জিনিস কিনতে পারবেন না, বরং পকেট সামলে কেনাকাটা করতে হলে বড়বাজার আদর্শ জায়গা। বিশাল জায়গাজুড়ে এই বাজার হওয়ায় আপনি কী কিনতে চাইছেন সেটা আগে থেকে ঠিক করে নেওয়া জরুরি। কারণ এই বাজারে জামাকাপড়, শাড়ি, গয়না, পুজোর সমস্ত সাজসজ্জা মিলবে। কিন্তু কোথায় তা মিলবে, তা আপনাকে খুঁজে নিতে হবে। প্রতিটি জিনিসের জন্য বড়বাজারে আলাদা মার্কেট রয়েছে। বড়বাজার পাইকারি বাজার হওয়ায় পুজোর অনেক আগে থেকেই এখানে বেশ ভিড় শুরু হয়। পকেটের কথা ভেবে পুজোর বাজার করতে হলে বড়বাজার আদর্শ জায়গা। 

মধ্যবিত্তের সাধ্যের বাজার খিদিরপুর 

খিদিরপুরের বাজারগুলি মূলত মধ্যবিত্তের ভীষণ পছন্দের বাজার। কারণ এখান থেকে কেনাকাটা করতে গেলে বাজেটের কথা অতটা ভাবতে হয় না, বরং নিজেদের পছন্দমতো জিনিস কেনাকাটা করা যায়। পোশাক, জুতো এবং গৃহস্থলীর নানান জিনিস এখানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। তাই পুজোর কেনাকাটা করার জন্য অনেকেরই পছন্দের জায়গা খিদিরপুর মার্কেট। 

ধর্মতলার ফুটপাথে ধুমধাম 

পুজোর আগের কটাদিন ধর্মতলার ফুটপাথ একেবারে রঙিন হয়ে ওঠে। নানান রকমের পোশাক, জুতো, ব্যাগ, গয়না নিয়ে ফুটপাথ জুড়ে যেন চলে প্রি-পুজো সেলিব্রেশন। এই সমস্ত জিনিসে আপনার চোখ আটকাতে বাধ্য। কিন্তু ভিড় ঠেলে এবং দরদাম করে সঠিক দামে সঠিক জিনিস কেনাটাই হয়ে ওঠে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এভাবে কেনাকাটারও যেন এক আলাদা আনন্দ। অনেকেই অপেক্ষা করে থাকেন পুজোর আগের এই কেনাকাটার জন্য। রীতিমতো দরদামের সংস্কৃতি মেনে এখানে কেনাকাটা হয়ে ওঠে বেশ মজাদার। তাই পকেট বাঁচিয়ে পুজোয় একটু আলাদাভাবে নিজেকে তুলে ধরতে চাইলে ধর্মতলা হয়ে উঠতে পারে আপনার কেনাকাটার সেরা ঠিকানা। 

এর বাইরেও উত্তর থেকে দক্ষিণ– শহর কলকাতার আরও বেশকিছু মার্কেট রয়েছে। পুজোর কেনাকাটার জন্য আপনি এবার কাকে বা কাদের বেছে নেবেন, তার দায়িত্ব আপনার। তবে যেখানেই যান মিলবে সেরাটাই।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন