Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

অসুস্থ রোগীকে ট্রেনে কলকাতায়, বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অবহেলার অভিযোগ

 

Hospital-negligence

সমকালীন প্রতিবেদন : আবারও বিতর্কে বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। অভিযোগ উঠেছে, গুরুতর অসুস্থ এক রোগীকে চিকিৎসা না করেই স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর্থিক অনটনের কারণে পরিবার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে না পারায় শেষমেশ ট্রেনে করেই কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যায় রোগীকে।

ঘটনা রবিবার বিকেলের। বনগাঁ পুরসভার সাতভাই কালীতলার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বসু হঠাৎ বুকে ও পেটে তীব্র ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকরা সেখানে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়েই কলকাতায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে করে করকাতায় নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় করতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি।

অভিযোগ, হাসপাতাল চত্ত্বরে থাকা অ্যাম্বুলেন্স ইউনিয়নের কাছে গেলে রোগীর পরিবারের কাছে চার হাজার টাকা ভাড়া দাবি করা হয়। সেই অর্থ জোগাড় করতে না পারায় তারা রোগীকে ট্রেনে করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের বনগাঁ-শিয়ালদা লোকাল ধরেই রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

রোগীর অভিযোগ, হাসপাতালে সহায়তা পাওয়ার পরিবর্তে উল্টে কর্তৃপক্ষ একপ্রকার চাপ দিয়ে তাঁদের বের করে দেয়। পরিবারের সদস্যরাও একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। রোগীর ভাইয়ের অভিযোগ, হাসপাতালে আনার পর ভাইয়ের নূনতম চিকিৎসা না করেই ভাইকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার কথা লিখে দেন চিকিৎসক। এব্যাপারে কথা বলতে গেলে ধমক খেতে হয়।

বনগাঁ পুরসভার প্রধান তথা রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য গোপাল শেঠ জানান, 'হাসপাতালের ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে ওই রোগীর পরিবার যদি পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করত, তবে পুরসভার পক্ষ থেকে বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা যেত। বনগাঁ পুরসভা সবসময় এই ধরনের মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে।'

এই ঘটনায় সরব হয়েছে রাজনৈতিক মহল। বনগাঁর বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল এই ঘটনার জন্য সরাসরি হাসপাতালের সুপারকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, 'হাসপাতালের সুপার নিজে নার্সিংহোম চালাতে ব্যস্ত, হাসপাতালে তিনি তেমন মনোযোগ দেন না। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সিন্ডিকেটরাজ চলছে।'

যদিও হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বাড়ুই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, 'হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সবসময় চালু থাকে। রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি।'‌ এদিনের ঘটনার পর বনগাঁ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের পরিষেবা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন