সমকালীন প্রতিবেদন : স্কুল সার্ভিস কমিশনকে কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী সাত দিনের মধ্যে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তালিকা প্রকাশ না হলে কমিশনকে ফল ভুগতে হবে। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সামান্য অন্যায় হলেই ফের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
বিচারপতি সঞ্জয় কুমার শুনানিতে মন্তব্য করেন, “আবার যদি অযোগ্যদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা হয়, আদালত চুপ করে থাকবে না।” বিচারপতির কড়া হুঁশিয়ারি, অযোগ্যদের নিয়োগে সামান্য কারচুপিও বরদাস্ত হবে না। শুনানিতে এসএসসির আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে দাবি করেন, দাগি প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পরে নিজের বক্তব্য সংশোধন করে আদালতের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।
বিচারপতিরা এ প্রসঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “একটু আগেই বললেন প্রকাশ করেছেন, এখন বলছেন হয়নি। আপনাদের আমরা বিশ্বাস করেছিলাম।” এরপর এসএসসি সাত দিনের সময় চেয়ে জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। আদালত সেই প্রতিশ্রুতি নথিভুক্ত করে জানায়, সময়সীমা লঙ্ঘন হলে মামলাকারীরা ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
এই মামলার শুনানিতে অযোগ্য নন এমন কিছু চাকরিহারারা পরীক্ষার সূচি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান। তবে বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পরীক্ষা কোনওভাবেই স্থগিত হবে না। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৭ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা হবে। শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের কড়া পর্যবেক্ষণ, “এত যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছেন আপনারা। মানুষ রাস্তায় নেমেছে। আপনাদের অন্যায়ের কারণে লোকে আদালতের দিকেও আঙুল তুলছে। এটা মানা হবে না। রাজ্য সরকার, বোর্ড, কমিশন– সবাই দায়ী।”
উল্লেখ্য, দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে চাকরি গিয়েছিল ২৫,৭৩৫ জনের। আদালত জানায়, সঠিক তথ্যের অভাবে যোগ্য ও অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব হয়নি। তাই গোটা প্যানেলই বাতিল করতে হয়েছে। পাশাপাশি ‘দাগি’ প্রার্থীদের ফেরত পাওয়া বেতন ফিরিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এসএসসি ও রাজ্য সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছিল, কিন্তু শীর্ষ আদালত তা খারিজ করে দেয়। বর্তমানে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে অযোগ্য প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার অভিযোগে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এ দিন শীর্ষ আদালত কড়া অবস্থান নেয়। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট বার্তা, অযোগ্যদের পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাদের নাম প্রকাশ্যে আনতে হবে এক সপ্তাহের মধ্যেই। না হলে কমিশনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে আদালত।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন