Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

স্বপ্নপূরণ করতে ৬০ বছর বয়সে ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই ভর্তি হলেন বাবা

 

60-years-old-Engineering-student

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌কথায় আছে, বয়স একটা সংখ্যা মাত্র। মানুষের মনের কোন বয়স হয় না। আর ঠিক তেমনই জানার বা শেখারও কোন বয়স হয় না। মানুষ যে কোন বয়সেই সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে পারে। 

আর এইরকম উদাহরণ আমরা বহুবার, বহুক্ষেত্রে দেখেছি। কেউ শেষ বয়সে গিয়ে করেছেন হাঁটুর বয়সী মেয়েকে বিয়ে, কেউবা আবার একটু অন্যরকম ভাবনা ভেবে সন্তানের সঙ্গেই দিয়েছেন মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। 

আজকের গল্পটা সেরকমই একজন বাবার। যিনি ৬০ পেরিয়ে ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই নিলেন অ্যাডমিশন। এই বয়সেও যে আবার পড়াশুনা শুরু করা যায়, তা প্রমাণ করে দিলেন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ গুহ, শুরু করলেন জীবনের এক নতুন অধ্যায়।

‘বুড্ডা হোগা তেরা বাপ’, সম্প্রতি ছেলের উদ্দেশ্যে এমন মন্তব্য করেই চোখে সানগ্লাস আর বাহন হিসাবে রয়াল এনফিল্ড নিয়ে কলেজের দিকে এগিয়ে গেলেন এই মানুষটি। যিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরের সময়টা শুধুমাত্র শুয়ে বসে কাটিয়ে না দিয়ে নিজের অপূর্ণ স্বপ্নটাকে পূরণ করার দিকে এগিয়ে গেলেন আরও একধাপ। 

সেইসঙ্গে বুড়ো আঙ্গুল দেখালেন সমাজের তৈরি করা এই বয়সের বেড়াজাল নামক অদৃশ্য বন্ধনকে। ইন্দ্রজিৎবাবু অর্থনীতিতে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৮৯ সালে মুর্শিদাবাদ ইনস্টিটিউট অফ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ডিপ্লোমা করেন। 

এরপর ১৯৯১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন কর্মী হিসাবে নিযুক্ত হন। তারপর থেকে তাঁর একদিকে কর্মজীবন এবং অন্যদিকে শুরু হয় সংসার জীবনের পথচলা। আর এসবের মধ্যে পড়ে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে মাস্টার্স করার ইচ্ছেটা পূরণ হয়নি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন টেকনিক্যাল সুপারেনটেনডেন্ট ইন্দ্রজিৎবাবুর।

তবে অবসর গ্রহণ করতেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন নিজের দেখা স্বপ্নকে পূরণ করতে। আর ভাবনা মতোই দিয়ে ফেললেন জয়েন্ট এন্ট্রান্স ল্যাটারাল এন্ট্রি টেস্ট। শুধু যে পরীক্ষা দিলেন তাই নয়, সেইসঙ্গে জেইএলইটি-তে তাঁর র‍্যাঙ্ক হল ৪৮১৪। 

আর রেজাল্ট বেরনোর পরই কলেজে ভর্তি হয়ে গেলেন। কথায় বলে না পৃথিবীটা গোল। আর সেটা আবারও প্রমাণিত হল। একটা সময় যে কলেজে নিজের ছেলেকে ভর্তির জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন, এখন দমদমের সেই সুধীরচন্দ্র সুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেই নিলেন নিজের অ্যাডমিশন। 

ইন্দ্রজিৎবাবু জানান, 'ডিপ্লোমা করার পর ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্স করার ইচ্ছে থাকলেও, তখন সংসারের চাপে আর তা করা হয়নি। তবে অবসর নিতেই পড়াশোনাটা শুরু করে দিই। কলেজে সকলে আমাকে কাকু বলে ডাকলেও, সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষক–শিক্ষিকা, সকলেই আমাকে অনেক সাহায্যও করেন।' 

শুধুমাত্র ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার জন্য তিনি পড়াশোনা শুরু করেন নি। মনের একটী ইচ্ছেকে বাস্তবায়িত করাই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। এব্যাপারে তাঁর বক্তব্য, '‌এখন পাস করি বা ফেল, তাতে কিছুই আসে যায় না। তবে জীবনের একটা অপূরণ স্বপ্নকে তো পূরণ করতে পারব।'‌

বাবার এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর ছেলে ঋজুও। এমনকি, বাবা যখন রয়াল এনফিল্ড নিয়ে কলেজে যান, তখন উলটে ছেলে বাবাকে সাবধান করে বলেন, ‘বয়স হয়েছে, আস্তে বাইক চালিও বাবা’। আর মজার ছলে বাবা তার উত্তর দেন, '‌বুড্ডা হোগা তেরা বাপ।'‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন