Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩

নজিরবিহীন নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের : চাকরি বাতিল ‌৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের

 

Job-cancellation-of-36-thousand-primary-teachers

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের ‌প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার নজিরবিহীন নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় নিয়োগ পাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে ৩৬ হাজার অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকের চাকরি বাতিল করলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। আর এই ঘটনায় ফের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ৪২ হাজার ৫০০ জন চাকরি পান। নিয়ম অনুযায়ী, প্রশিক্ষিতদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ছিল। কোনও শূন্যপদ পড়ে থাকলে তবেই অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার নিয়মের কথা বলা হয়ে ছিল। 

এব্যাপারে চাকরি না পাওয়া ১৪০ জন প্রার্থী পরবর্তীতে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে দাবি করেন, নম্বর বিভাজনের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে, তাঁদের থেকে কম নম্বর পেয়েও অনেক অপ্রশিক্ষিত প্রার্থী চাকরি পেয়েছেন। এমনকী ইন্টারভিউ না দিয়েই ওই চাকরি পাওয়া প্রার্থীদের থেকে বেশি নম্বর পেয়েছেন। সেরকম একটি তালিকাও তৈরি করেন মামলাকারীরা। তাতে মোট ১৩৯ জনের নাম ছিল।

গত ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ১৩৯ জনের তালিকাটি খতিয়ে দেখার জন্য পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নিয়োগে অনেক অস্বচ্ছতা সামনে চলে আসে। গ্রেপ্তার হন সেইসময়কার প্রাথমিক শিক্ষা পর্যদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। সমস্তকিছু দেখে ক্ষুব্ধ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সেই সময় গোটা প্যানেল বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘ঢাকি সমেত বিসর্জন’ দিয়ে দেওয়া হবে। 

অবশেষে শুক্রবার অনেকটা তেমনই রায় ঘোষনা করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর এদিনের নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী চার এইসব শিক্ষকেরা স্কুলে যেতে পারবেন। তবে পূর্ণ নয়, তাঁরা প্যারা টিচারের বেতনের হারে বেতন পাবেন। রাজ্যকে এই সময়কালের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে তা শেষ করতে হবে। 

এদিনের নির্দেশে বিচারপতি আরও জানিয়েছেন, যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁরা ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁরাও অংশ নিতে পারবেন। প্রয়োজনে দুর্নীতি মামলায় ধৃত মানিক ভট্টাচার্যের কাছ থেকে নেওয়া অর্থেও নিয়োগ প্রক্রিয় সম্পন্ন করা যেতে পারে।

শুক্রবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে ৬,২৫০ জন প্রশিক্ষিত শিক্ষকের চাকরি থাকছে। বাকি ৩৬ হাজার প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনই তাদের চাকরি যাবে না। যে অপ্রশিক্ষিত শিক্ষকরা ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁরা নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার ইন্টারভিউয়ে বসতে পারবেন। 

নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁরা যদি উত্তীর্ণ হন, তাহলে তাদের স্কুলের চাকরি বহাল থাকবে। তাঁদের ‘সার্ভিস ব্রেক’ হবে না। কিন্তু ওই ৩৬,০০০ জন শিক্ষকের মধ্যে যাঁরা এখনও প্রশিক্ষণ নেননি, তাঁদের চাকরি থাকার কোনও প্রশ্নই নেই। তাঁরা যদি আবার প্রাথমিক স্কুলে চাকরি পেতে চান, তাহলে প্রাথমিক টেট দিয়ে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া পেরিয়ে আসতে হবে। সঙ্গে থাকতে হবে প্রশিক্ষণ।

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে শিক্ষক নিয়োগ মামলায় কয়েকটি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও নিয়োগ দূর্নীতির ক্ষেত্রে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় যে অপ্রতিরোধ্য, তা আবারও প্রমানিত হল। হাইকোর্টের এদিনের নির্দেশের পর অবশ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ইতিমধ্যেই এব্যাপারে আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিতে শুরু করেছে।






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন