সমকালীন প্রতিবেদন : চোটের কারণে এখনও ক্রিকেট মাঠে প্রত্যাবর্তন করতে পারেননি হার্দিক পাণ্ডিয়া। তার মধ্যেই আইপিএলকে ঘিরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন ভারতীয় দলের এই অলরাউন্ডার। আগামী আইপিএলে তাঁকে আর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে দেখা যাবে না। নতুন মরসুমে সম্পূর্ণ নতুন দলের হয়ে খেলতে চলেছেন হার্দিক। একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে পঞ্জাব কিংসের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। বিনিময়ে পঞ্জাবের কাছ থেকে দুই ক্রিকেটারকে দলে নিতে চলেছে পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বই। তাঁরা হলেন বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিং এবং উইকেটকিপার-ব্যাটার বিষ্ণু বিনোদ।
সূত্রের খবর, দুই ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে এই দলবদল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছেছে দুই পক্ষ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বোর্ডের তরফে নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই দলবদলের ঘোষণা করা হতে পারে। এক সূত্রের দাবি, হার্দিকের পঞ্জাবে যোগ দেওয়া এবং অর্শদীপের মুম্বইয়ে আসার বিষয়টি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত। পঞ্জাবের অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের নেতৃত্বে খেলার সুযোগ পেয়ে খুশি হার্দিক বলেও জানা গিয়েছে।
তবে এই দলবদলে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। হার্দিকের জন্য পঞ্জাব কত টাকা খরচ করছে কিংবা অর্শদীপ ও বিষ্ণু বিনোদের বিনিময়ে মুম্বই কত অর্থ পাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি যে সাধারণ নিলামের মাধ্যমে হচ্ছে না, তা জানা গিয়েছে। তিন বছর আগে যেভাবে গুজরাত টাইটান্স থেকে হার্দিককে মুম্বইয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, এবারও একইভাবে ট্রেডের মাধ্যমে দলবদল হচ্ছে।
হার্দিককে পাওয়ার জন্য একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি আগ্রহ দেখিয়েছিল। সেই তালিকায় ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সও। তবে তাঁকে পাওয়ার দৌড়ে রাজস্থান রয়্যালস সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল বলে খবর। এমনকী হার্দিককে দলে নেওয়ার জন্য যশস্বী জয়সওয়ালকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্শদীপকে পাওয়ার আগ্রহ থেকেই মুম্বইয়ের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় পঞ্জাব।
মুম্বইয়ের পরিকল্পনায় অর্শদীপের গুরুত্ব যথেষ্ট। জসপ্রীত বুমরার সঙ্গে তাঁর জুটি তৈরি হলে দলের বোলিং আক্রমণ অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে এবং ইনিংসের শেষের দিকে অর্শদীপের কার্যকারিতা মুম্বইকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। অন্যদিকে, ভারতীয় উইকেটকিপার হিসেবে বিষ্ণু বিনোদকেও দলের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে মুম্বই।
এদিকে, সূর্যকুমার যাদবকে নিয়েও দলবদলের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তাঁকেও মুম্বই ছেড়ে অন্য দলে যেতে দেখা যেতে পারে বলে খবর ছড়িয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুম্বইয়েই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, হার্দিকের ক্রিকেটজীবনের উত্থানের নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের। ২০১৫ সালে এই দলের হয়েই আইপিএলে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। ২০২১ সাল পর্যন্ত মুম্বইয়ের হয়ে খেলার সুবাদে জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আসেন এবং ভারতীয় দলের তিন ফরম্যাটেই জায়গা করে নেন। এরপর ২০২২ সালে গুজরাত টাইটান্স তাঁকে দলে নেয় এবং অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়। তাঁর নেতৃত্বে প্রথম মরসুমেই চ্যাম্পিয়ন হয় গুজরাত। পরের মরসুমে দল পৌঁছায় ফাইনালে।
২০২৫ সালে পুরনো দল মুম্বইয়ে অধিনায়ক হিসেবে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন হার্দিক। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য আসেনি। এবার তাই নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে চলেছেন তিনি। পঞ্জাব কিংসের হয়ে প্রথমবার আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা হতে চলেছে এই অলরাউন্ডারের। অন্যদিকে, অর্শদীপকে পেয়ে বোলিং বিভাগকে নতুন করে সাজানোর স্বপ্ন দেখছে মুম্বই। আসন্ন আইপিএলের আগে এই ট্রেড দুই দলের শক্তির ভারসাম্যে কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার।










কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন