Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি হবে না, বনগাঁর বিজয়া সম্মিলনীতে বার্তা অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈখিক মহাসংঘের

 ‌

Bijoya-Sammilani

সমকালীন প্রতিবেদন : শিক্ষক নিয়োগে বিগত সরকারের আমলের দুর্নীতির কড়া সমালোচনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈখিক মহাসংঘের বনগাঁ ১ নম্বর চক্রের বিজয়া সম্মিলনী। বনগাঁ পৌরসভার চন্দ্রিকা হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এদিনের এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের রাজ্য ও জেলা স্তরের নেতৃত্ব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ পৌরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার।

প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন উপস্থিত অতিথিরা। সংগঠনের বনগাঁ ১ নম্বর চক্রের সম্পাদিকা অর্পিতা দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “রাষ্ট্রবাদী সরকার গঠনের পর এটি আমাদের প্রথম বিজয়া সম্মেলন। প্রায় ৬০০ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী আমাদের সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন, যা আমাদের কাজের প্রতি তাঁদের বিপুল উৎসাহ ও সাড়ার প্রমাণ দেয়। আজকের এই সম্মেলনে প্রায় ২০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত হয়েছেন। আগামী দিনে শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা সমবেতভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।” পাশাপাশি, সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের সামগ্রিক উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে সংগঠনের রাজ্য কমিটির সম্পাদক তন্ময় সরকার স্পষ্ট জানান, “বিগত সরকার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি করেছে, তার পুনরাবৃত্তি আর হবে না। নতুন সরকার শিক্ষার স্বার্থে ও ছাত্রছাত্রীদের সঠিক শিক্ষা দিতে উপযুক্ত সিলেবাস তৈরি করছে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি রুখতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে মৌখিকের নম্বর কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”

সংগঠনের রাজ্য যুগ্ম সম্পাদক লোকনাথ ঘোষ বলেন, “গত সরকারের আমলে যেভাবে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে বহু যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত রয়ে গেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে আমাদের জোরালো দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রের এই দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং যোগ্য প্রার্থীদের তাঁদের প্রাপ্য শিক্ষকের সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে।”

সংগঠনের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ গোপাল মন্ডল তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের পরিধি বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে জানান, গতবারের তুলনায় এ বছর জেলায় সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার ৪টি মহকুমার মোট ৩৯টি সার্কেলে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারের শিক্ষানীতিকে একেবারে নিচুতলা পর্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়ন করা।

এদিনের এই বিজয়া সম্মিলনীতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক তন্ময় সরকার, রাজ্যের যুগ্ম সম্পাদক লোকনাথ ঘোষ, রাজ্য কমিটির সদস্য নারায়ণ দত্ত, জেলা সভাপতি কৃষ্ণ গোপাল মন্ডল, জেলা সম্পাদক হিমাংশু হালদার এবং জেলা কমিটির অন্যান্য সদস্য চন্দন ঘোষ ও অনুপ দাস প্রমুখ। 

এছাড়া বনগাঁ ১ সার্কেলের প্রায় ২০০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বনগাঁ পৌরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার। শিক্ষক সমাজকে সুসংহত করা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়েই সফলভাবে সম্পন্ন হয় এই বিজয়া সম্মিলনী।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন