Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে পৃথক সার্ভিস কমিশন গঠনের উদ্যোগ রাজ্যের

 

University-service-commission

সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। স্কুল ও কলেজের শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক সার্ভিস কমিশন থাকলেও এতদিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তেমন কোনও কেন্দ্রীয় নিয়োগকারী সংস্থা ছিল না। এবার সেই ব্যবস্থাতেই বদল আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক-সহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় সার্ভিস কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই কমিশন তৈরির সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে উচ্চশিক্ষা দফতর। দফতর সূত্রে খবর, শুক্রবার এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সার্ভিস কমিশনের সম্ভাব্য কাঠামো কেমন হবে, কীভাবে কাজ করবে এবং শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি কী হওয়া উচিত, সেই সমস্ত বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে বিশেষজ্ঞ কমিটি। 

পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিয়মের ধারাবাহিকতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর মতো বিষয়গুলিও বিবেচনায় রাখা হতে পারে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও পরামর্শ সংগ্রহ করে একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ জমা দেবে তারা। আগামী এক মাসের মধ্যেই কমিটিকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত কমিশন বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে অনুমোদিত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নিজস্ব ভূমিকা ও ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু নতুন কমিশন কার্যকর হলে সেই ক্ষমতা আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাতে থাকবে না। পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতি ও পদ্ধতি চালু হতে পারে।

উল্লেখ্য, এর আগেই রাজ্যের স্কুল শিক্ষা প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে সরকার। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক থেকে শুরু করে অতিরিক্ত ও সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং জেলা শিক্ষা আধিকারিক স্তরে একযোগে ৫৭ জন আধিকারিকের বদলি ও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছিল। কলকাতা-সহ হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং দুই মেদিনীপুরের মতো একাধিক জেলায় এই প্রশাসনিক পরিবর্তন করা হয়।

স্কুল শিক্ষা প্রশাসনে রদবদলের পর এবার উচ্চশিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থাতেও কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা রাজ্যের। তবে নতুন কমিশন কবে থেকে কাজ শুরু করবে এবং তার নিয়োগবিধি কী হবে, তা নির্ভর করছে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট ও পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের উপর।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন