সমকালীন প্রতিবেদন : বাড়িতে এক বৃদ্ধাকে রেখে পুজো দেখতে গিয়ে দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতে উঠেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটালো দুষ্কৃতীরা। বাড়ির ছাদের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে কয়েক লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় চোরেরা। অষ্টমীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাগদা থানার অন্তর্গত হেলেঞ্চা কুমোরখোলায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাগদা থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগদার হেলেঞ্চা কুমোরখোলা এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ কুন্ডুর বাড়িতে এই চুরির ঘটনাটি ঘটেছে। পরিবার সূত্রে খবর, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ বাড়ির সদস্যরা দুর্গাপুজো দেখতে বাইরে বেরিয়ে যান। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন পরিবারের এক বৃদ্ধা। অভিযোগ, পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সুযোগ বুঝে বাড়িতে ঢোকে চোরেরা। এরপর ঘরের ভিতরে থাকা মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ফিরে এসে ঘরের ভিতরের অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যান। তাঁদের অভিযোগ, ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে রাখা হয়েছিল। আলমারি ও অন্যান্য জায়গায় রাখা মূল্যবান সামগ্রী খুঁজে দেখতে গিয়ে বোঝা যায়, বাড়িতে চুরি হয়েছে। খোঁজাখুঁজির পর দেখা যায়, বেশ কয়েকটি সোনার গয়না এবং নগদ টাকা উধাও। চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সোনার চেন, শাঁখা বাঁধানো, আংটি-সহ একাধিক গয়না। সব মিলিয়ে চুরি যাওয়া সোনার গয়নার মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে পরিবারের দাবি। পাশাপাশি বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকাও নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
পরিবারের দাবি, ছাদের দরজা দিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেছিল চোরেরা। কীভাবে ছাদের দরজা দিয়ে ঢুকে তারা বাড়ির ঘরে পৌঁছাল, সেই বিষয়টি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বাড়ির সদস্যরা যখন পুজো দেখতে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই এই সুযোগে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছেন পরিবারের লোকজন। বাড়িতে একজন বৃদ্ধা উপস্থিত থাকলেও কীভাবে চোরেরা এই কাণ্ড ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেল, তা নিয়েও এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বাগদা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কীভাবে চুরির ঘটনা ঘটল, কোন পথে দুষ্কৃতীরা বাড়িতে প্রবেশ করেছিল এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। চুরি যাওয়া সোনার গয়না ও নগদ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রদীপ কুন্ডুর স্ত্রী তাপসী কুন্ডু। তাঁর দাবি, যাঁরা এই চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া সমস্ত সোনার গয়না ও নগদ টাকা উদ্ধার করে পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
দুর্গাপুজোর রাতে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে এমন চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। উৎসবের মরশুমে বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলাকায়। পুলিশি তদন্তে চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এবং চুরি যাওয়া সামগ্রীর হদিস মেলে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন প্রদীপ কুন্ডুর পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন