Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

বনগাঁয় সিপিএমের বুকস্টল তৈরিতে সিঙ্গল বেঞ্চের অনুমতি খারিজ ডিভিশন বেঞ্চের

CPM-bookstall

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌বনগাঁয় দুর্গাপুজোর সময়ে সিপিএমের বুকস্টল বসানোকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া অনুমতির নির্দেশ খারিজ করে দিল প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু বুকস্টল নয়, রাস্তার ধারে টেবিল ও ছাতা পেতেও অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আদালত। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের বিচার্য এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে, অন্য রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের স্টল বসানোর অনুমতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২১ জানুয়ারি।

বনগাঁর যশোর রোডে নিজেদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতি বছর দুর্গাপুজোর সময় বইয়ের স্টল বসিয়ে থাকে সিপিএম। কিন্তু চলতি বছরে সেই স্টল বসাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বামেরা। তাদের দাবি, একই এলাকায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চকে স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হলেও সিপিএমের ক্ষেত্রে আপত্তি জানানো হচ্ছে। এই বৈষম্যের অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকার ও পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন বাম নেতৃত্ব।

সিপিএমের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ দলীয় কার্যালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যে বুকস্টল তৈরির অনুমতি দিয়েছিল। পাশাপাশি, এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশে আপত্তি জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে রাজ্য সরকার। রাজ্যের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট জমিটি পূর্ত দপ্তরের অধীন। ফলে জমি সংক্রান্ত বিষয়টি বিবেচনা করা এবং পুলিশের রিপোর্ট চাওয়ার ক্ষেত্রে সিঙ্গল বেঞ্চের এক্তিয়ার রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সরকার।

শুক্রবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি অনুমতির বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। সিপিএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে জানান, বুকস্টল বসানোর অনুমতি চেয়ে পূর্ত দপ্তর এবং হাইওয়ে কর্তৃপক্ষকে ই-মেল করা হয়েছিল। পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পালটা রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, অন্যান্য স্টলের অনুমতি রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলও অনুমতি ছাড়া বুকস্টল বসানোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন, রাস্তার ধারে অনুমতি ছাড়া কোনও স্টল রাখা যায় না। আইনের চোখে সকলের সমান অধিকার থাকা প্রয়োজন। তাই অনুমতি না থাকলে রাস্তার ধারের সমস্ত স্টল সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সিপিএমের আইনজীবী জানান, তাদের বুকস্টল অন্য স্টলগুলির একই সারিতে রয়েছে। তবে স্টলটি রাস্তার উপর কতটা জায়গা দখল করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

পুজো একপ্রকার শুরু হয়ে যাওয়ায় সিপিএমের তরফে বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়। আইনজীবী জানান, কোনও মাইক বা মাইক্রোফোন ব্যবহার না করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মাত্র পাঁচ ফুট জায়গায় একটি টেবিল ও ছাতা নিয়ে বই বিক্রি করতে দেওয়া হোক। কিন্তু সেই প্রস্তাবেও সম্মতি দেয়নি ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, টেবিল ও ছাতা পেতেও বুকস্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া যাবে না।

এদিকে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের স্টল বসানোর অনুমতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অনুমতি না থাকলে সেই স্টল সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশকে। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ হলেও মামলাটি ফের সিঙ্গল বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানিতে মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হতে পারে। আপাতত আদালতের নির্দেশে বনগাঁয় সিপিএমের বুকস্টল বসানো নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই গেল।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন