Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

জাফর আলি মণ্ডলের দোকানের নিচ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, ভোজালি উদ্ধার

 

Recovery-of-firearms

সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি জাফর আলি মণ্ডলকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের দাবি করল পুলিশ। গোপালনগর থানার সহিসপুর বাজারে জাফরের কাপড়ের দোকানের নিচ থেকে দেশি প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, একাধিক কার্তুজ এবং একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। 

পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট লুঠ এবং এক মহিলা ভোটারের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে জাফর আলি মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই গত বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার নিউটাউন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোপালনগর থানার পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক তাকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। 

এরপর পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় জাফর আলি মণ্ডলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহিসপুর বাজারে তার কাপড়ের দোকানের নিচে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দেশি প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র। 

এছাড়া পাওয়া গিয়েছে তিনটি .৩০৩ বোরের কার্তুজ এবং ১২ বোরের কার্তুজ ভর্তি একটি বেল্ট, যাতে মোট ২০টি কার্তুজ ছিল বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, লোহার তৈরি একটি ভোজালিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, সেগুলি কী উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশের তরফে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও কার্তুজের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত চালানো হচ্ছে। অস্ত্রগুলি বেআইনিভাবে মজুত রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নতুন অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ। একটি রাজনৈতিক মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এতগুলি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনগাঁ মহকুমায়। 

উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় জাফর আলি মণ্ডলের গ্রেফতারির পর এবার তার দোকানের নিচ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে নির্বাচনী হিংসার মামলার সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন