সমকালীন প্রতিবেদন : এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো গাইঘাটা থানা এলাকায়। রবিবার সকালে স্থানীয় একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ওই নাবালিকার দেহ একটি বাড়ির পিছন থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবার ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে সন্দেহভাজন প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃতা ও তার মা সম্প্রতি মামার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। শনিবার রাতে স্থানীয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মায়ের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল ওই ছাত্রী। অনুষ্ঠানের মাঝে বান্ধবীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কাটানোর পর থেকেই তার আর কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে খুঁজে পাননি।
রবিবার সকালে স্থানীয় একটি বাড়ির পিছন থেকে ওই ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে গাইঘাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।
প্রতিবেশী দেবেন পান্ডে জানান, সকালে বাড়ির লোকজন শৌচাগারে যাওয়ার সময় ওই কিশোরীকে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর আশপাশের লোকজনকে ডাকা হয়। সেবা দাস নামে এক মহিলা বলেন, প্রতিবেশী এক মহিলা খবর দিলে তিনি গিয়ে দেখেন মেয়েটি পড়ে আছে। তার পরনে জামা থাকলেও প্যান্ট ছিল না। অন্য এক প্রতিবেশী মিতা দাসের মতে, দেহের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, নাবালিকাকে প্রথমে ধর্ষণ করা হয় এবং পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে খুন করা হয়। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন হিসেবে প্রহ্লাদ দাসের নাম উল্লেখ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছে তারা। অভিযোগ পাওয়ার পর গাইঘাটা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার দিন রাতে মৃতা ছাত্রী কার কার সঙ্গে অনুষ্ঠান এলাকা ছেড়ে বাইরে গিয়েছিল, সে ব্যাপারে খোঁজখবর এবং জিজ্ঞাসাবাদ চালানোর চেষ্টা করছে পুলিশ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন