Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

দশমীর রাতে গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী

Husband-arrested

সমকালীন প্রতিবেদন : দশমীর রাতে গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল গাইঘাটা থানার চাঁদপাড়া এলাকায়। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বধূ নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর স্বামী বিভাস সাহাকে। মৃত গৃহবধূর নাম পায়েল সাহা। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও ছড়িয়েছে। যদিও ঠিক কী কারণে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বিভাস সাহার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল পায়েলের। বিয়ের পর প্রথম দিকে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কয়েক মাস আগে থেকে দাম্পত্য জীবনে অশান্তির কথা নিজের পরিবারের সদস্যদের জানাতে শুরু করেন পায়েল। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পায়েলের ননদ ও শ্বশুর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ বাধানোর চেষ্টা করত। সেই কারণেই সংসারে অশান্তি তৈরি হচ্ছিল বলে দাবি মৃতার পরিবারের।

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, দশমীর রাতে হঠাৎ পায়েলের অসুস্থতার খবর পান তাঁরা। খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান পরিবারের লোকজন। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, পায়েলের মৃত্যু হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের দাবি, পায়েল আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবারের লোকজন সেই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, পায়েল আত্মহত্যা করতে পারেন না। এরপরই বধূ নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই পায়েলের স্বামী বিভাস সাহাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, পায়েলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিভাসের বাড়িতে জড়ো হন এলাকার বেশ কয়েকজন মহিলা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে মহিলাদের আশ্বস্ত করে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্যদিকে, পায়েলের ভাসুরের বক্তব্য, কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। তাঁর দাবি, তিনি বাড়ি থেকে গাইঘাটার দিকে যাওয়ার সময় ভাই ফোন করে কান্নাকাটি করে ঘটনার কথা জানায়। এরপর বাড়িতে ফিরে দরজা ভেঙে পায়েলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাঁর আরও দাবি, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিজেদের কোনও বিবাদ থাকলেও পায়েলের সঙ্গে বিভাসের কোনও অশান্তি ছিল বলে তাঁরা জানতেন না। সব মিলিয়ে, গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠছে। পুলিশি তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন