সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যে পুরনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা না হলেও আগাম প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়া-সহ একাধিক পুরনিগম ও পুরসভায় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে সাংগঠনিক রদবদল– সব ক্ষেত্রেই তৎপরতা বাড়িয়েছে গেরুয়া শিবির। এই আবহে বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্যে আসছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। শুক্রবার রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকেই পুরভোটের রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
সূত্রের খবর, আসন্ন পুরনির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতেই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বনসল। কোন ওয়ার্ডে কাকে প্রার্থী করা হবে, স্থানীয় স্তরে দলের সাংগঠনিক শক্তি কতটা এবং সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় কী কৌশল নেওয়া হবে, সেই বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে আসতে পারে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে চলতি অক্টোবর মাসেই কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম নির্বাচনের জন্য বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হতে পারে।
যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও নভেম্বর মাসে কলকাতা, হাওড়া-সহ সাতটি পুরনিগম ও পুরসভায় ভোট হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই দ্রুত প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে বিজেপি। তবে ভোটের দিনক্ষণ এবং প্রার্থী তালিকা প্রকাশের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
পুরভোটের প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে বিজেপির অন্দরে চলছে জোরদার আলোচনা। দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূলের টিকিটে জয়ী কয়েকজন পুরসভার সদস্যও বিজেপির হয়ে নির্বাচনে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে যোগাযোগ রাখছেন। রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁদের কথাবার্তা চলছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে দলবদলের সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলিতে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা– দুই দিকই বিজেপির বিবেচনায় থাকতে পারে।
তবে কারা বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তাঁদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী হবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ফলে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাছাইপর্ব চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু আসন্ন সাতটি পুরনিগম ও পুরসভার নির্বাচন নয়, আগামী বছর রাজ্যের অন্যান্য পুরসভায় সম্ভাব্য ভোটের প্রস্তুতিও এখন থেকেই শুরু করতে চাইছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। রাঢ়বঙ্গ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ প্রায় দশটি সাংগঠনিক জেলায় কমিটির রদবদল হতে পারে। কলকাতার সাংগঠনিক জেলাগুলিও এই পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
জেলা স্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন, সংগঠনের সক্রিয়তা বৃদ্ধি এবং বুথভিত্তিক প্রস্তুতি জোরদার করার মতো বিষয়গুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। পুরভোটকে সামনে রেখে স্থানীয় স্তরে দলের সংগঠনকে কতটা কার্যকর করা যায়, সেই দিকেও নজর রাখতে চাইছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত সমস্যাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। বিষয়টি মেটাতে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষকেই শুনানির জন্য ডেকেছে। আগামী ৩০ তারিখ সেই শুনানি হওয়ার কথা।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। কংগ্রেস ও বাম শিবিরের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার আগেই প্রার্থী বাছাই এবং সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে বিজেপি।










কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন