Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনায় নদিয়া থেকে আটক পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ

 

Chorbagan-incident

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নয়া মোড়। এবার কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে আটক হলেন পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু। পুজো কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি মণ্ডপে ঘোষক হিসেবেও কাজ করতেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য এবং মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন অনুসরণ করে নদিয়া থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে। এরপর তাঁকে কলকাতার লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই সঞ্জীবের সন্ধান মেলে বলে জানা গিয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর, মহাসপ্তমীর দিন চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন করতে গিয়ে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির মধ্যে বিপুল দর্শনার্থীর ভিড় এবং হুড়োহুড়ির জেরে প্রাণ হারান ১৯ জন। আহত হন আরও ২৫ জন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই পুজোর আয়োজন, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং মণ্ডপে প্রচারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সঞ্জীব রাহাকে আটক করার পর তদন্তে নতুন তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য আয়োজকদের তরফে পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। ঘটনার সময় বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে পুজো কমিটির মাইক থেকে বারবার ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘোষণায় দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান। তবে ওই ঘোষণার প্রকৃত ভূমিকা এবং দুর্ঘটনার সঙ্গে তার সম্পর্ক তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে। সেই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। পাশাপাশি, ফরেন্সিক দলের তরফে থ্রিডি স্ক্যানার ব্যবহার করে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার সময় পরিস্থিতি কেমন ছিল, ভিড়ের গতিপথ কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তদন্তে সেই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সিটের প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য, পুলিশের কোনও আধিকারিক কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তি– যাঁর গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকুক না কেন, তাঁকে চিহ্নিত করাই তদন্তের মূল লক্ষ্য।

রাজ্য সরকার এই তদন্তের জন্য তিন মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। তদন্তের নিরপেক্ষতা ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সিটের প্রধান আশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, সরকার কেবল লোকদেখানোর জন্য তদন্ত করছে, এমন ধারণায় তিনি বিশ্বাসী নন। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে আন্তরিক বলেও তিনি মনে করেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিটিং বিচারপতির পরিবর্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

চোরবাগান সর্বজনীনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সঞ্জীব রাহার আটক হওয়া তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে দুর্ঘটনার পিছনে কারও নির্দিষ্ট ভূমিকা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থলের ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন