সমকালীন প্রতিবেদন : গাইঘাটার বর্ণবেড়িয়া রাজবংশী পাড়ায় কৃষক খুনের ঘটনায় ধৃতকে বৃহস্পতিবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে পেশ করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। চাষের জমির পাশ থেকে স্থানীয় কৃষক বাসুদেব দাসের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত নাড়ুগোপাল দাসকে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। পুলিশের আবেদনে সাড়া দিয়ে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বর্ণবেড়িয়া এলাকায় নিজের চাষের জমিতে গিয়েছিলেন বাসুদেব দাস। এরপর ধানক্ষেতের পাশ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গাইঘাটা থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এই ঘটনায় প্রথম থেকেই সন্দেহের তির ছিল নাড়ুগোপাল দাস এবং তাঁর স্ত্রীর দিকে। বাসুদেবের স্ত্রী দীপা দাস তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে নাড়ুগোপালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাসুদেবের মতো নাড়ুগোপালও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে দুই কৃষকের মধ্যে কী কারণে এমন বিবাদ তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বাসুদেবের সঙ্গে নাড়ুগোপালের স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি সূত্রের। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা অবশ্য কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
অন্যদিকে, বাসুদেবের স্ত্রী দীপা দাস বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার নেপথ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ থাকতে পারে। দীপার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ১০টা নাগাদ খাওয়াদাওয়া সেরে নিজের জমিতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বাসুদেব। সেখানে তিনি জবা ফুলের চাষ করতেন। পরে সেই জমির কাছ থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। দীপার আরও দাবি, তাঁর স্বামীকে ফোন করা হয়েছিল। তিনি ফোন ধরলেও অপর প্রান্ত থেকে কেউ কোনও কথা বলেননি।
এদিন আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা অভিযুক্ত নাড়ুগোপালকে একাধিক প্রশ্ন করেন। তবে কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি তিনি। গোটা ঘটনায় এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর অধরা। শুধুই কি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের, নাকি টাকা-পয়সার লেনদেন কিংবা অন্য কোনও বিবাদ এই হত্যাকাণ্ডের কারণ? সেই উত্তর খুঁজতেই ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে খুনের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন