সমকালীন প্রতিবেদন : বাগদা থানার নাটাবেড়িয়া এলাকায় এক তরুণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার গভীর রাতে নিজের ঘর থেকে উদ্ধার হয় ১৯ বছরের সামিয়া মণ্ডলের ঝুলন্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল সামিয়াকে। এমনকি বিদেশে থাকা স্বামীও ফোনের মাধ্যমে তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত বলে অভিযোগ। এই ঘটনার নেপথ্যে অত্যাচারের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে মৃতার পরিবার। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বাগদা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে রানাঘাটের কুটিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনিরুল দফাদারের সঙ্গে দেখাশোনা করে বিয়ে হয়েছিল নাটাবেড়িয়ার বাসিন্দা সামিয়ার। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। সামিয়ার পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর উপর মানসিক এবং শারীরিক অত্যাচার চালাতেন। দিনের পর দিন এই পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে থাকতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওই তরুণী।
পরিবারের আরও অভিযোগ, কাজের সূত্রে মনিরুল বিদেশে চলে যাওয়ার পরেও সামিয়ার উপর অত্যাচার বন্ধ হয়নি। বরং বিদেশে বসেও ফোনের মাধ্যমে স্বামী তাঁকে মানসিক চাপ দিত বলে অভিযোগ উঠেছে। শ্বশুরবাড়িতে থাকতে গিয়ে এই পরিস্থিতি আর সহ্য করতে না পেরে কয়েক দিন আগে নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সামিয়া। এরপর তিনি বাপের বাড়িতে চলে আসেন।
পরিবারের দাবি, বুধবার রাতে স্বামী মনিরুলের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়েছিল সামিয়ার। কিন্তু সেই কথোপকথনের পর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। রাত গভীর হতেই নিজের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তরুণীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অত্যাচারের জেরেই এমন মর্মান্তিক পরিণতির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের মেয়েকে।
ঘটনার পর দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে বাগদা থানার দ্বারস্থ হয়েছে সামিয়ার পরিবার। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি উঠেছে। তবে ঠিক কী কারণে সামিয়ার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
মাত্র চার মাস আগে বিয়ে হওয়া এক তরুণীর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে। স্বামীর সঙ্গে শেষ কথোপকথনের পর ঠিক কী ঘটেছিল? পারিবারিক অশান্তি বা অত্যাচারের অভিযোগের সঙ্গে এই মৃত্যুর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে মৃতার পরিবার।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন