Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

গাইঘাটা কাণ্ডে এনকাউন্টারে মৃত প্রহ্লাদ, পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন দুই পরিবারেরই

 

Gaighata-Encounter

সমকালীন প্রতিবেদন : গাইঘাটার নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য অব্যাহত। মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যুর পর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বারাসত জেলা হাসপাতালে পাঠানো হল। তার আগে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয়। চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বারাসতে। সেই সময় প্রহ্লাদের বাবাও সঙ্গে ছিলেন। এনকাউন্টার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “উপযুক্ত কাজ হয়েছে।”

ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রহ্লাদের মায়ের বক্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “একজন মা হিসেবে নয়, একজন সাধারণ মহিলা নাগরিক হিসেবে আমার বক্তব্য, পুলিশ যা করেছে, সঠিক কাজ করেছে।” তাঁর দাবি, প্রহ্লাদ যে জঘন্য অপরাধ করেছে, তার জন্য এমন শাস্তিই প্রাপ্য ছিল। ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, মেয়েকে হারানোর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মৃত নাবালিকার বাবা-মা। প্রহ্লাদের মৃত্যুর খবর তাঁদের কাছেও পৌঁছেছে। এই ঘটনায় তাঁদের প্রতিক্রিয়া, মেয়েকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তবে অভিযুক্ত তার কৃতকর্মের ফল পেয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। পুলিশের পদক্ষেপকে সঠিক বলেই অভিহিত করেছেন নির্যাতিতার বাবা-মা।

এদিকে, এনকাউন্টারের ঘটনা নিয়ে পুলিশ সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু না জানালেও পুলিশের একটি সূত্রে ঘটনার বিবরণ সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য সোমবার গভীর রাতে প্রহ্লাদকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল গাইঘাটা থানার পুলিশ। কাজ শেষ করে ফেরার পথে বৈদ্যবাড়ির মোড়ের কাছে প্রাকৃতিক কাজের জন্য তাকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। সেই সময় এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত।

পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, প্রহ্লাদ চার রাউন্ড গুলি চালায়। তাতে পুলিশের গাড়িতে একটি গুলি লাগে। প্রাণ বাঁচাতে এক পুলিশকর্মী পুকুরে ঝাঁপ দেন এবং পালানোর চেষ্টায় এক পুলিশকর্মী জখম হন। এরপর পুলিশ পাল্টা তিন রাউন্ড গুলি চালায়। তার মধ্যে দুটি গুলি প্রহ্লাদের বুকের পাঁজরে এবং একটি পায়ে লাগে বলে দাবি। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনায় জখম পুলিশকর্মী অভিক কোটালের চিকিৎসা চলে হাসপাতালে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, যে এলাকায় পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে এলাকা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পরবর্তী তদন্তে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন