সমকালীন প্রতিবেদন : গাইঘাটা থানা এলাকায় এক তরুণীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় নিহত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাড়িতে গেলেন রাজ্যের খাদ্য ও সমবায় দপ্তরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অশোক কীর্তনীয়া বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন ঘটনা কোনওভাবেই কাম্য নয়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।
নিহত তরুণীর পরিবারের আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবার যে ধরনের সাহায্য পাওয়ার যোগ্য, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে। এই কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দেন তিনি।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। নিহত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের আসা এবং তাদের বিভিন্ন দাবি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন। অশোক কীর্তনীয়া অভিযোগের সুরে বলেন, কয়েকজন নেতা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন। এই ধরনের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার বার্তাও দেন তিনি। পাশাপাশি, দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে বলে ফের আশ্বস্ত করেন।
অন্যদিকে, নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে বিজেপি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নারী সুরক্ষায় জোর দেওয়ার কথা বারবার বলা হলেও এমন ঘটনা কেন ঘটছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৪৯ বছরের যন্ত্রণা একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। সমাজের পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সমাজের মানুষকে নিয়েই পরিবর্তনের পথে এগোতে হবে। তাই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য কিছুটা সময় দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
গাইঘাটার এই ঘটনায় এখন নজর তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। একই সঙ্গে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে প্রশাসন ও সরকার কতটা দাঁড়ায়, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন