সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় ক্রিকেট আকাশের এক সময়ের উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রাক্তন বাঁ-হাতি ব্যাটার বিনোদ কাম্বলি পুনরায় চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়ো তাঁর অগুণতি অনুরাগী ও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে নতুন করে গভীর উদ্বেগ ও অনুশোচনার জন্ম দিয়েছে। নয়ের দশকে নিজের মারকুটে ব্যাটিং দিয়ে যিনি প্রতিপক্ষের বাঘা বাঘা বোলারদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছিলেন, জীবনের অপরাহ্নে তাঁকে একটি বৃদ্ধাশ্রম তথা এল্ডারলি কেয়ার সেন্টারে দেখে অনেকেই হতবাক।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের থানেতে অবস্থিত ‘নিদান’ নামের একটি প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। অবশ্য ভিডিয়োতে তাঁকে ওই প্রতিষ্ঠানের পরিষেবা, পরিবেশ ও কর্মচারীদের আন্তরিকতার প্রশংসা করতে শোনা যায়। নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে কাম্বলি বলেন, “আমি বর্তমানে নিদানে অবস্থান করছি। এখানকার পরিবেশ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত আমাকে নিজের বাড়ির অনুভূতির কথা মনে করিয়ে দেয়। সেখানকার মানুষ আমাকে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও পরম শ্রদ্ধা দিচ্ছেন।”
ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা ও বর্তমান জীবনসংগ্রাম নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকে তাঁর আশু আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে শারীরিক অসুস্থতা, আর্থিক টানাপোড়েন এবং জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের কারণে বারবার খবরের শিরোনামে এসেছেন ৫২ বছর বয়সি এই প্রাক্তন তারকা। এর আগেও তাঁকে ঠিকমতো হাঁটতে না পেরে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলাফেরা করার অবস্থায় দেখা গিয়েছিল, যা ক্রীড়ামহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
অথচ বিশ্ব ক্রিকেটে বিনোদ কাম্বলির আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল উল্কার মতো ধুমকেতু হয়ে। ১৯৯১ সালের অক্টোবরে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর ১৯৯৩ সালে নিজের ২১তম জন্মদিনে আন্তর্জাতিক ওয়ান ডে-তে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক হাঁকিয়ে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। শচীন তেন্ডুলকারের শৈশবের এই বন্ধুকে একসময়ে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সম্ভাবনাময় ব্যাটার হিসেবে গণ্য করা হতো।
তবে খ্যাতির চূড়ায় উঠলেও তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সফর খুব বেশি দীর্ঘায়িত হয়নি। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই বন্ধ হয়ে যায় তাঁর টেস্ট ক্রিকেটের দুয়ার। যদিও এর পর একদিনের আন্তর্জাতিক দলে তিনি ৯ বার প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবে স্থায়ী আসন পাননি। অবশেষে ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে চিরতরে বিদায় জানান এই ব্যাটার।
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ভারতের হয়ে ১৭টি টেস্ট ম্যাচে চারুটি শতক ও ৫৪ গড়ে ১,০৮৪ রান সংগ্রাহ করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি ১০৪টি ওয়ান ডে ম্যাচে তাঁর সংগৃহীত রান ২,৪৭৭, গড় ৩২। এককালের অসামান্য প্রতিভা ও প্রতিশ্রুতির প্রতীক বিনোদ কাম্বলির এই বর্তমান পরিস্থিতি ক্রীড়াজগতকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শারীরিক ও সামাজিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মাঝে প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তিনি যে স্বস্তি ও যত্ন পাচ্ছেন, সেটুকুই আপাতত তাঁর অনুরাগীদের মনে কিছুটা সান্ত্বনা জোগাচ্ছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন