Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত না হয়েই স্থলভাগে গভীর নিম্নচাপ, দুর্যোগ বাংলায়

 

Very-deep-depression

সমকালীন প্রতিবেদন :‌ বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া অতি গভীর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত না হয়েই স্থলভাগে প্রবেশ করেছে। বুধবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের দক্ষিণ-পশ্চিমে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের কাছে স্থলভাগে ঢোকে সেটি। এরপর উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগোতে শুরু করে নিম্নচাপটি। এর সরাসরি প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।

মৌসম ভবন সূত্রে খবর, বুধবার রাত ১১টা থেকে রাত ১টার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার কলিঙ্গপত্তনমের কাছে গভীর নিম্নচাপটির ‘ল্যান্ডফল’ হয়। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ সেটি কলিঙ্গপত্তনম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপূর্বে এবং ওড়িশার গোপালপুর থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। স্থলভাগে প্রবেশের পরও এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। উপকূলে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল।

নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আবহাওয়ার অবনতি হওয়া শুরু হয়। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে থাকে। এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিও হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এক-দু’টি এলাকায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও বৃহস্পতিবার কয়েক পশলা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি চলছে। শহরে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টির দাপট বেশি। শুধু উপকূলবর্তী জেলাগুলিই নয়, পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য এলাকাতেও নিম্নচাপের প্রভাব ‌পড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়।

পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনের তরফেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলেও পরিস্থিতি প্রতিকূল। পুরীতে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের জন্য লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রস্নানে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি পর্যটকদের সতর্ক করতে লাগাতার মাইকিং করা হচ্ছে। সমুদ্রতটের বিভিন্ন এলাকায় লাইফগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে এবং লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক এলাকায় টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া চলছে। বিজয়ওয়াড়াতেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। টানা দু’দিন স্কুলে পঠনপাঠন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরী-সহ ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকাতেও আগামী দু’দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত গভীর নিম্নচাপ হিসেবেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। শনিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুরের কিছু অংশেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতিভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে সেই সতর্কতা বহাল থাকবে। শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় হলুদ সতর্কতাও জারি রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার দাপট কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও রবিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে। তবে এখনই রাজ্যজুড়ে পুরোপুরি বৃষ্টি বিদায়ের সম্ভাবনা নেই। সামগ্রিকভাবে ২৬ সেপ্টেম্বরের পর বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। ফলে আপাতত বর্ষার বিদায় নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন