সমকালীন প্রতিবেদন : জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলা ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসের আগে ভারতীয় ক্রিকেট শিবিরে ফের চোটের বড়সড় ধাক্কা। পেটের বাঁ-পাশের সাইড স্ট্রেইনের কারণে আসন্ন এই মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি ছিটকে গিয়েছেন অভিজ্ঞ 'রহস্য স্পিনার' বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর জায়গায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে উত্তরপ্রদেশের ২২ বছর বয়সী উদীয়মান লেগ-স্পিন অলরাউন্ডার বিপ্রজ নিগমকে।
সাম্প্রতিক সময়ে চোটের সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না ৩৫ বছর বয়সি এই স্পিনারের। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট সারিয়ে বেঙ্গালুরুর 'সেন্টার অফ এক্সেলেন্স' থেকে ফিটনেস ছাড়পত্র পেয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন বরুণ। সিরিজের প্রথম ম্যাচে চমৎকার বোলিং করে ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন তিনি। কিন্তু বোলিং করার সময়ই পেটে তীব্র অস্বস্তি অনুভব করেন। পরবর্তীতে এমআরআই এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর সাইড স্ট্রেইন বেশ গুরুতর এবং তাঁকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
বরুণের এই চোটের ফলে আবার কাঠগড়ায় বিসিসিআই-এর 'সেন্টার অফ এক্সেলেন্স'। সম্প্রতি একাধিক জাতীয় দলের তারকা বারবার চোটের পুনরাবৃত্তিতে পড়ায় বোর্ডের চিকিৎসা ও রিহ্যাব ব্যবস্থা নিয়ে ক্রিকেট অলিন্দে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এই মেগা টুর্নামেন্টের আগেই চোট পেয়ে বাদ গিয়েছেন পেসার হর্ষিত রানা, তাঁর পরিবর্তে এসেছেন যশ ঠাকুর।
বরুণের পরিবর্তে প্রথমে কুলদীপ যাদবের কথা ভাবা হলেও চলতি মাসের শেষের দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ থাকায় নির্বাচকরা তরুণ মুখ বেছে নেওয়ার পথেই হেঁটেছেন। এই সুবাদে কপাল খুলেছে দিল্লি ক্যাপিটালসের তরুণ অলরাউন্ডার বিপ্রজ নিগমের। ২০২৫ সালের আইপিএলে অভিষেকের পর থেকেই নজর কেড়েছেন এই তরুণ। আইপিএলে ১৯টি ম্যাচে ১৩টি উইকেটের পাশাপাশি প্রায় ১৭৬ স্ট্রাইক রেটে ১৫৭ রান করেছেন তিনি। বিশেষ করে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ১৫ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে নিজের হিটিং ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিলেন বিপ্রজ।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়ান গেমস শুরু হলেও পুরুষদের ক্রিকেট ইভেন্ট শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে সোনা জয়ের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করবে ভারত। জাপানের অচেনা উইকেটে বরুণের মতো অভিজ্ঞ বৈচিত্র্যময় স্পিনারের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ক্ষতি হলেও, লোয়ার অর্ডারে দ্রুত রান তোলা ও দরকারী সময়ে ব্রেক-থ্রু এনে দেওয়ার দক্ষতায় বিপ্রজ ভারতীয় স্কোয়াডের ভারসাম্য বজায় রাখবেন বলেই আশাবাদী নির্বাচকমণ্ডলী।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন