সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ পুলিশ জেলার অন্তর্গত গোপালনগর থানার জানিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৫ বোতল কাশির সিরাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া সিরাপের মধ্যে কোডিন ফসফেট ও ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইডের মতো উপাদান রয়েছে। এই ঘটনায় তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কাশির সিরাপের বেআইনি সংগ্রহ, মজুত, পরিবহণ এবং সীমান্ত পেরিয়ে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বনগাঁ থানার পিএসআই তৌসিফ আহমেদের লিখিত স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি শুরু হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর বনগাঁ ও গোপালনগর থানার পুলিশ আধিকারিকরা গোপালনগর থানার জানিপুর এলাকায় অভিযান চালান। সেখানে একটি পরিত্যক্ত পাম্প হাউসের মধ্যে সন্দেহজনক অবস্থায় একটি প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান পুলিশকর্মীরা। তল্লাশি চালিয়ে বস্তাটির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ৬৫ বোতল ‘উইনসেরেক্স কাফ সিরাপ’।
প্রতিটি বোতলে ১০০ মিলিলিটার করে সিরাপ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলি ‘উইংস ফার্মা’ সংস্থার তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সিরাপগুলিতে কোডিন ফসফেট এবং ট্রাইপ্রোলিডিন হাইড্রোক্লোরাইড রয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বোতলগুলির গায়ে থাকা ব্যাচ নম্বরগুলি মুছে ফেলা বা বিকৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে সেগুলির ব্যাচ নম্বর স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনায় হাফিজুর রহমান মণ্ডল ওরফে সুটো, সাবির আলি মণ্ডল এবং আজগার শেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হাফিজুর রহমান মণ্ডল ওরফে সুটো সুন্দরপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে এর আগেও বনগাঁ থানায় মামলা রয়েছে। চলতি মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর বনগাঁ থানার ৭৫৫/২০২৬ নম্বর মামলায় আর্মস অ্যাক্টের ২৫(১)(ক) ধারায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাফিজুর রহমান মণ্ডল ওরফে সুটো ফেনসিডিলের বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সে কাশির সিরাপ সংগ্রহ, মজুত, পরিবহণ এবং সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জেরায় জানিয়েছে বলে পুলিশের দাবি। পাশাপাশি, বাংলাদেশে পাচার করে সেখানে ওই সিরাপ অবৈধভাবে বিক্রি ও বিতরণের সঙ্গেও যুক্ত থাকার কথা সে জানিয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের আরও দাবি, এই বেআইনি কারবার একা নয়, অন্য অভিযুক্তদের পাশাপাশি আরও কয়েকজনের সঙ্গে যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে চালানো হচ্ছিল। সীমান্তবর্তী বনগাঁ ও গোপালনগর এলাকায় কাশির সিরাপের এই ধরনের বেআইনি কারবারের পিছনে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন