সমকালীন প্রতিবেদন : পঞ্চায়েতের বোর্ড দখলকে কেন্দ্র করে বনগাঁ ও গাইঘাটা ব্লকে বড় রাজনৈতিক পালাবদল। অনাস্থা প্রস্তাব এবং পরবর্তী ভোটাভুটির মাধ্যমে কালুপুর ও জলেশ্বর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ তৃণমূল কংগ্রেসের হাত থেকে বিজেপির দখলে গেল। দুটি পঞ্চায়েতেই নতুন প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। আবির খেলায় মেতে ওঠেন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
বনগাঁ ব্লকের কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে এই ক্ষমতার বদল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মোট ২৯টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিপরীতে বিজেপি পেয়েছিল ১১টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তৃণমূল বোর্ড গঠন করলেও পরবর্তী সময়ে দলের বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্য পদত্যাগ করায় রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমশ বদলাতে শুরু করে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। বিজেপির ১১ জন সদস্যের সঙ্গে তৃণমূলের তিনজন সদস্যও অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। এর ফলে তৃণমূলের হাতে থাকা পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায়। অনাস্থা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন প্রধান নির্বাচনের পথও প্রশস্ত হয়।
পরবর্তী পর্যায়ে সর্বসম্মতিক্রমে সৌমেন সরকারকে কালুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ হাতে আসার পর বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা আবির খেলায় মেতে ওঠেন এবং জয় উদযাপন করেন।
একই দিনে গাইঘাটা ব্লকের জলেশ্বর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতেও ঘটে একই ধরনের ক্ষমতার পরিবর্তন। ১৭টি আসনের এই পঞ্চায়েতে ২০২৩ সালের নির্বাচনে ১০টি আসনে জয় পেয়ে বোর্ড গঠন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছিল সাতটি আসন।
বিজেপির দাবি, পরবর্তীকালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকেই পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান নিয়মিতভাবে অনুপস্থিত থাকছিলেন। পরে দু’জনেই পদত্যাগ করায় প্রধানের পদ শূন্য হয়ে যায়। সেই শূন্য পদে নতুন প্রধান নির্বাচনের জন্য বৃহস্পতিবার পঞ্চায়েতে নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।
তবে ওই নির্বাচনে তৃণমূলের ১০ জন সদস্যের কেউ উপস্থিত হননি বলে জানা যায়। ফলে বিজেপির সাতজন সদস্যকে নিয়েই প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভোটাভুটির পর বিজেপির লক্ষ্মী বিশ্বাস জলেশ্বর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান নির্বাচিত হন।
একই দিনে দুই পঞ্চায়েতে তৃণমূলের বোর্ড হাতছাড়া হওয়ায় বনগাঁ ও গাইঘাটা ব্লকের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে। একদিকে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, অন্যদিকে পরপর দুটি পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ হাতে পেয়ে বিজেপি নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার দাবি করছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পঞ্চায়েত স্তরে সদস্যদের দলবদল, পদত্যাগ এবং অনাস্থা প্রস্তাবের জেরে একাধিক জায়গায় নির্বাচনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। কালুপুর ও জলেশ্বর-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষমতার হাতবদলও সেই পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আগামী দিনে এই দুই ব্লকে পঞ্চায়েত রাজনীতিতে এই পালাবদলের প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন