Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না ঢোকায় বাগদা বিডিও অফিসে ‌সরকারি কর্মীকে হেনস্তা

 ‌

Annapurna-Yojana

সমকালীন প্রতিবেদন : অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে এসে বাগদা বিডিও অফিসের এক ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে হেনস্তা ও তাঁর মোবাইলে চড় মারার অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। ঘটনায় মোবাইলটি হাত থেকে পড়ে গিয়ে স্ক্রিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই কর্মী। পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করারও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর।

ঘটনাটি বাগদা ব্লক অফিসে। অভিযোগকারী ডাটা এন্ট্রি অপারেটর রাজেশ ঘোষের দাবি, সোমবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই তিনি অফিসে নিজের কাজ করছিলেন। দুপুরের পর এক মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ও টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে তাঁর কাছে আসেন। সেই সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিক অন্য একটি কাজে ব্যস্ত থাকায় ওই মহিলাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়।

অভিযোগ, অপেক্ষা করতে বলার পরেই ওই মহিলা উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং সরকারি আধিকারিককে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। সরকারি আধিকারিকের বাবা-মাকে নিয়েও কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিবাদ করেন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর রাজেশ ঘোষ।

রাজেশের দাবি, ঘটনার ছবি বা প্রমাণ রাখার জন্য তিনি নিজের মোবাইল ফোন বের করতেই ওই মহিলা তাঁর হাতে থাকা মোবাইলে চড় মারেন। আচমকা আঘাতে মোবাইলটি হাত থেকে মাটিতে পড়ে যায়। ফলে মোবাইলের স্ক্রিন ফেটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। শুধু মোবাইলে আঘাত নয়, তাঁকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রাজেশের।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তপন চন্দ্র বিশ্বাসের দাবি, ওই মহিলা সরকারি কর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন। তাঁর কথায়, অফিসে এসে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে ওই মহিলার বচসা শুরু হয় এবং পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্য পক্ষের দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া নিয়ে যেভাবে সাধারণ মহিলাদের হেনস্তা হতে হচ্ছে, তাতে এইধরনের ক্ষোভ স্বাভাবিক।

এদিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগদা বিডিও অফিসে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরকারি দফতরে কর্মরত একজন কর্মীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বা আবেদন সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে তা নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানোই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু সেই অভিযোগ জানাতে এসে সরকারি কর্মীকে হেনস্তা ও তাঁর মোবাইল ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে বাগদার বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কোনও বক্তব্য দিতে চাননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিন শুধু বাগদা নয়, একই দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করা বঞ্চিত মহিলারা।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন