সমকালীন প্রতিবেদন : বনগাঁ ব্লকের আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে পালাবদল। তৃণমূলের প্রধানের ইস্তফার পর নতুন প্রধান নির্বাচিত হলেন বিজেপির ঝুমা দাস। সোমবার প্রধান নির্বাচনের সময় বিজেপির ১১ জন পঞ্চায়েত সদস্য উপস্থিত থাকলেও তৃণমূলের কোনও সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন না। সরকারি নিয়ম মেনেই বিজেপির ঝুমা দাসকে আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন সংখ্যা ৩০। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এর মধ্যে ১৯টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং ১১টি আসন দখল করেছিল বিজেপি। নির্বাচনের পর তৃণমূলের দখলেই ছিল পঞ্চায়েতটি এবং তাদের সদস্যদের মধ্যে থেকেই প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে পরবর্তীতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূলের প্রধান। এরপরই নতুন করে প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই নির্বাচনকে ঘিরে এদিন পঞ্চায়েত দফতরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
নতুন প্রধান নির্বাচনের সময় বিজেপির ১১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের কোনও পঞ্চায়েত সদস্য সভায় উপস্থিত হননি বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যেই সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর বিজেপির ঝুমা দাসকে আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পর ঝুমা দাসের দাবি, দীর্ঘ ৪৯ বছর পর আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষমতার পরিবর্তন হল। তাঁর কথায়, এই দায়িত্বকে তিনি রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি এলাকার মানুষের প্রতি দায়িত্ব হিসেবেও দেখছেন। আগামী দিনে আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়নমূলক কাজের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধান।
আকাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এই পরিবর্তনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। ৩০ সদস্যের পঞ্চায়েতে ২০২৩ সালের নির্বাচনে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বর্তমানে প্রধানের পদে বিজেপির প্রতিনিধি বসায় পঞ্চায়েতের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। তবে পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যদের অবস্থান এবং আগামী দিনে বোর্ডের কাজকর্ম কীভাবে পরিচালিত হবে, সেদিকেও নজর থাকবে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন