সমকালীন প্রতিবেদন : যশোর রোডে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এক গুরুতর নিরাপত্তা সংকটের অবসান ঘটতে চলেছে। শতাব্দীপ্রাচীন, ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃতপ্রায় গাছগুলিকে অপসারণের কাজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিদিনের যাতায়াতকারীদের মনে যে আতঙ্ক জমে উঠেছিল, প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সেই আতঙ্কের মেঘ কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
যশোর রোড পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও নানা ধরনের যানবাহন এই পথে চলাচল করে। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুরনো বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলির মধ্যে অনেকগুলি সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে, আর বেশ কিছু গাছ এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে যে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
আর এমন ঘটনা ইতিমধ্যেই একাধিকবার ঘটেছে। তাতে একাধিক মানুষের আহত এবং নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বর্ষাকালে বা ঝড়ো হাওয়ায় ডালপালা ভেঙে রাস্তায় পড়ার ঘটনা বারবার ঘটায় গাছ কাটার পক্ষে বহুবার সওয়াল করেছেন সচেতন নাগরিকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে একাধিক দুর্ঘটনার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় এব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া উচিত সরকারকে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বনগাঁর শিকদারপল্লী এলাকায় একটি শুকনো গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তিনি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত গাছ চিহ্নিত করে অপসারণের আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন এখন চোখে পড়ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবার থেকে পেট্রাপোল থানার খলিতপুর এলাকা থেকে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ১১১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃতপ্রায় গাছ অপসারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি ঠিকাদার সংস্থাকে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধান শাজাহান গাজী জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে নির্ধারিত সমস্ত গাছ কেটে ফেলার কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গাছ কাটার কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বইছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, এতদিন বিশেষ করে বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগত। কখন কোন শুকনো ডাল বা গাছ ভেঙে পড়বে, সেই আশঙ্কা সবসময়ই ছিল। অনেকে নিজের চোখের সামনে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখেছেন। তাঁদের আশা, ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলি কেটে ফেলা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে এবং সাধারণ মানুষ আরও নিরাপদে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি জানিয়েছেন, শুধু গাছ কেটে দায়িত্ব শেষ করলেই হবে না। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শুকনো ডাল ছাঁটাই এবং প্রয়োজনে নতুন গাছ রোপণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তবেই যশোর রোডের ঐতিহ্য বজায় থাকবে, পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন