সমকালীন প্রতিবেদন : সীমান্ত শহর বনগাঁয় অসাধু ব্যবসার রমরমা ও কেরোসিনের কালোবাজারি রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল বনগাঁ পুলিশ জেলার ডিস্ট্রিক্ট ইনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। সোমবার দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শহরের দুটি পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার লিটার বেআইনি কেরোসিন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার অপরাধে তিন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বনগাঁর বিভিন্ন এলাকাকে কেন্দ্র করে কেরোসিন অবৈধভাবে মজুত করার ও চড়া দামে বিক্রির একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। সেই নির্দিষ্ট গোপন খবরের ওপর ভিত্তি করেই সোমবার দুপুরে মেগা অভিযানে নামে ডিস্ট্রিক্ট ইনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ।
ডিএসপি (ডিইবি)-র প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এবং বনগাঁ থানার আইসি-র উপস্থিতিতে যৌথ প্রতিনিধি দলটি প্রথম অভিযান চালায় বনগাঁর রেটপাড়া এলাকায়। সেখানে এক ব্যবসায়ীর বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে ড্রাম ভর্তি প্রচুর পরিমাণ কেরোসিন পাওয়া যায়। তবে ওই বিপুল পরিমান কেরোসিনের উৎসের কোনো সঠিক সরকারি নথি বা মজুতের আইনানুগ অনুমোদনপত্র ওই ব্যবসায়ী দেখাতে পারেননি।
প্রথম হানার রেশ কাটতে না কাটতেই ইনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের দলটি পৌঁছায় বনগাঁ নিউ মার্কেট এলাকায়। সেখানে দ্বিতীয় এক অসাধু ব্যবসায়ীর গোডাউন বা ডেরায় তল্লাশি চালিয়েও উদ্ধার করা হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কেরোসিন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যবসায়ী অবৈধ উপায়ে কেরোসিন এনে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অভিযানের বিপুলতা ও বাজেয়াপ্ত কেরোসিনের বিপুল পরিমাণ দেখে সরেজমিনে পরিস্থিতি তদারকি করতে হাজির হন বনগাঁ পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাশ্রেক আম্বাদার। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, "রেটপাড়া এবং নিউ মার্কেট– এই দুটি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে আমরা মোট ১০ হাজার লিটার কেরোসিন বাজেয়াপ্ত করতে পেরেছি। উদ্ধার হওয়া এই তেলের স্বপক্ষে কোনো বৈধ কাগজ ছিল না। ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাঁদের টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।"
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই কেরোসিন সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত বা কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যম থেকে সরিয়ে এনে অবৈধভাবে গুদামজাত করা হচ্ছিল। উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় বাজারে বা অন্যত্র চড়া দামে কালোবাজারি করা কিংবা বেআইনিভাবে পাচার করে দেওয়া।
আটক তিন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আইনি ধারায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এই কালোবাজারির শিকড় কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, তেলের আসল উৎস কোথায় এবং চালানের নেপথ্যে কোনো বড় সরবরাহকারী সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিইবি ও বনগাঁ থানার পুলিশ যৌথ তদন্ত জারি রেখেছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন