সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্য সরকারের ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের পর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শুরু হওয়া ২৬ হাজার শিক্ষকের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা। নির্ধারিত ডেডলাইন পেরিয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে, নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) ও রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত, অর্থাৎ আরও আট মাস সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সচিন সচদেবার বেঞ্চে এই আর্জির শুনানি হতে চলেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত পরীক্ষার ‘অ্যানসার কি’ প্রকাশের পর থেকে প্রায় ১.২৯ লক্ষ বিষয়ভিত্তিক অভিযোগ জমা পড়েছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, ওএমআর উত্তরপত্রে একাধিক ত্রুটি ও অসংগতি রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি বিষয়ে ওএমআর উত্তরপত্রে প্রশ্ন উত্তর করার চেষ্টা করলেই পূর্ণ নম্বর মিলছে এবং মাত্র অ্যাটেম্পটের ওপর ভিত্তি করেই মিলছে ১৬-১৭ নম্বর।
এই বিপুল অভিযোগের সঠিক নিরসনে গঠন করতে হয়েছে বিশেষ রিভিউ কমিটি। তা ছাড়া, প্রায় ৫ লক্ষ ওএমআর শিট নিখুঁতভাবে স্ক্যান করতে প্রতিটি ওএমআর অন্তত তিন বার করে পরীক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রক্রিয়াটির গতি আশঙ্কাজনকভাবে শ্লথ হয়ে পড়েছে। রাজ্য নির্বাচনের পর কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ পাঁচটি জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আঞ্চলিক আধিকারিকেরা একযোগে পদত্যাগ করেন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে হঠাৎ তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থার জেরে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দাপ্তরিক কাজ সাময়িকভাবে বড় ধাক্কা খায়।
পাশাপাশি, একের পর এক আইনি জটিলতা এবং মামলা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ, ডিভিশন বেঞ্চ থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায় সম্পূর্ণ কাজ আটকে পড়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্যতম বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পূর্বতন সরকারের আমলে জারি হওয়া ওবিসি-এ ও ওবিসি-বি শংসাপত্র বাতিল করে প্রার্থীদের 'সাধারণ শ্রেণি'ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকার ওবিসি তালিকায় ১০% সংরক্ষণ বাদ দিয়ে ৭% সংরক্ষণের অবস্থান নিয়েছে। শূন্যপদ বিভাজনে এর সরাসরি প্রভাব পড়ায় কমিশন নতুন নীতিনির্ধারণ ও সুস্পষ্ট আইনি পথনির্দেশের অপেক্ষায় বাধ্য হয়ে আটকে রয়েছে। জটিলতার মধ্যেও কমিশন জানিয়েছে, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্যানেল তৈরির কাজ চূড়ান্ত। ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে ২১টির কাউন্সিলিং শেষ করে ইতিমধ্যে ৩,৫৮৬ জনকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া নবম-দশম শ্রেণির ইন্টারভিউ তালিকাও তৈরি রয়েছে।
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের ওই পরীক্ষায় নবম-দশমে ২ লক্ষ ৯৩ হাজার এবং একাদশ-দ্বাদশে ২ লক্ষ ২৯ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এদিকে সময়সীমা বারংবার বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, "দীর্ঘদিন ধরে যোগ্য প্রার্থীরা অপেক্ষা করছেন। আমরা চাই আইনি জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে দ্রুত যোগ্যদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হোক, অহেতুক কালক্ষেপণ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।"









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন