সমকালীন প্রতিবেদন : বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, প্রবীণ আদিবাসী মহিলা ও তাঁর স্বামীকে বেধড়ক মারধর এবং জাতি তুলে গালাগাল করার গুরুতর অভিযোগে উত্তপ্ত বাগদা এলাকা। গত ৮ জুলাই, ২০২৫ তারিখে দায়ের হওয়া একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আর এই ঘটনায় বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান তৃণমূল সদস্য গোপা রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, গত ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। বাগদার নুঞ্চাপোটা গ্রামের বাসিন্দা ৭৬ বছর বয়সী প্রবীণ আদিবাসী মহিলা সাগরী মুন্ডা বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানানো হয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় তিন বাসিন্দা জোর করে সাগরী দেবীর বসতবাড়িতে চড়াও হয়। অভিযুক্তেরা হলো– প্রেমপ্রসাদ রায়, রামপ্রসাদ রায় এবং গোপা রায়। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিনা প্ররোচনায় তাঁদের বাড়িতে ঢুকে অত্যন্ত অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলতে শুরু করে। সাগরী দেবী ও তাঁর স্বামী এর প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে।
অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তেরা বৃদ্ধ দম্পতির ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। হামলায় প্রবীণ দম্পতি শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পান। বৃদ্ধা অভিযোগকারীর নৈতিক চরিত্র নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অসংবেদনশীল মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ। সাগরী দেবী আদিবাসী সম্প্রদায়ের হওয়ায়, অভিযুক্তেরা তাঁর সামাজিক ও জাতিগত পরিচয় তুলে অত্যন্ত অপমানজনক ও হেয় মন্তব্য করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নির্যাতিত প্রবীণ দম্পতি আইনের দ্বারস্থ হন। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রবীণ আদিবাসী দম্পতির ওপর এমন অন্যায্য ও বর্ণবিদ্বেষমূলক আক্রমণে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন