Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

পদ্মার ইলিশের জট ছাড়াতে বাংলাদেশ যাচ্ছে ভারতীয় আমদানিকারীদের প্রতিনিধিদল

 

Padma-Hilsa

সমকালীন প্রতিবেদন : দুর্গাপুজো মানেই বাঙালি উৎসবপ্রেমীদের কাছে উপচে পড়া আনন্দ, আর পেটপুজোয় রূপোলি শস্য ‘পদ্মার ইলিশ’-এর স্বাদ। তবে গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে উৎসবপ্রেমী বাঙালিদের। সে বার পুজোর ঠিক মুখে পশ্চিমবঙ্গ মাত্র ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ হাতে পেয়েছিল, আর সামান্য কিছু অংশ গিয়েছিল ত্রিপুরায়। তবে এ বার পরিস্থিতি ঠিক কেমন দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত কোনও বার্তা মেলেনি বাংলাদেশের তরফে। 

ওপার বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক রদবদলের পর নতুন সরকার এলেও এ বার ওপার বাংলার পদ্মার ইলিশ আদৌ পশ্চিমবঙ্গের পাতে এসে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে বিস্তর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আর এই জট কাটাতে এবং ভারতের বাজারে বাংলাদেশ থেকে যাতে ইলিশ আসে, সেই প্রক্রিয়া সুগম করতে তড়িঘড়ি ঢাকা সফরের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় আমদানিকারীরা।

আমদানিকারীদের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরের সময় সে দেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ দ্বিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও এপার বাংলার আর্জিআসন্ন বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বিশেষ আবেদন জানানো হবে, যাতে শারদোৎসবের দিনগুলিতে এপার বাংলার ইলিশপ্রেমী মানুষের দীর্ঘদীনের অপেক্ষার অবসান ঘটে।  

পশ্চিমবঙ্গের ফিস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতুলচন্দ্র দাস আশা প্রকাশ করে বলেন, “আশা করছি এই বৈঠক ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে এবং ইলিশ বাণিজ্যের সমস্ত জটিলতা নিরসন করা সম্ভব হবে।”উল্লেখ্য, তিস্তার জলবণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা ও ভৌগোলিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জের ধরে ২০১২ সাল থেকে সরকারিভাবে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার। 

দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপুজো উপলক্ষে বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে সীমিত পরিমাণে ইলিশের কনসাইনমেন্ট পাঠানো শুরু হয়, যা প্রধানত উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। গত বছর বাংলাদেশ সরকার সে দেশের ৩৭টি রপ্তানিকারক সংস্থাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ সরবরাহের বিশেষ অনুমোদন দিয়েছিল।  

এপার বাংলায় এক কেজি বা তার বেশি ওজনের পদ্মার ইলিশের মূল্য চড়চড়িয়ে কেজি প্রতি আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এ বছর অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় উপকূলীয় এলাকা– যেমন দীঘা বা নামখানায় ট্রলারগুলিতে ট্রিপ পিছু পর্যাপ্ত ইলিশ উঠলেও বড় ওজনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। কেজি ওজনের ইলিশের জোগান এক প্রকার নামমাত্র।

জানা গেছে, গত পাঁচ-ছয় দিন সাগরে বেশ ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে। তবে নিম্নচাপ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার দরুন সম্প্রতি সমুদ্রে যাওয়ার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা কাটার পর যদি পুনরায় ভালো পরিমাণ মাছ ট্রলারে আসে, তবে বলা যাবে এবারের জোগান গতবারের চেয়ে উন্নত। অন্যথায় গত বছরের মতোই আকাল বহাল থাকবে।  

চলতি মরসুমে ইলিশের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য যে ধরনের বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন ছিল, তা বজায় থাকায় আশাবাদী স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। কিন্তু স্বাদ ও সুবাসে অনন্য পদ্মার ইলিশের চাহিদা চিরকালীন। ঢাকার বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আগামী সোমবারের হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পরই চূড়ান্ত হবে, এ বছর এই বঙ্গের বাঙালির পুজো মরসুমে পদ্মার সেই মিষ্টি ইলিশের দেখা মিলবে কি না। ‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন