Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে শেহওয়াগ ও দ্রাবিড়-পুত্র

 

Son-of-Sehwag-and-Dravid

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের দুই মহীরূহ বীরেন্দ্র শেহওয়াগ ও রাহুল দ্রাবিড়। টেস্ট কিংবা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ দুই দশক ধরে প্রতিপক্ষের ঘুম উড়িয়েছেন এই দুই কিংবদন্তি। এবার তাঁদেরই পরবর্তী প্রজন্ম ব্যাটে-বলে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজেদের নতুন সফর শুরু করতে চলেছে। অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে আসন্ন সীমিত ওভারের (ওয়ানডে) সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের ভারতীয় দল ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে নিজেদের প্রতিভার জোরে জায়গা করে নিয়েছেন বীরেন্দ্র শেহওয়াগের ছেলে আর্যবীর শেহওয়াগ এবং রাহুল দ্রাবিড়ের ছোট ছেলে অন্বয় দ্রাবিড়।

আর্যবীর শেহওয়াগ ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে। ইতিমধ্যেই দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর কেড়েছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্যবীরের ব্যাটিংয়ে তাঁর বাবার ছায়া স্পষ্ট। কভার ড্রাইভ, স্কোয়্যার ড্রাইভ কিংবা বলকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠানোর মানসিকতা– সবেতেই যেন বীরুর সেই নির্ভীকতার ছোঁয়া।

তবে কেবল নামের জোরে নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক রান করেই এই জায়গায় পৌঁছেছেন ১৭ বছরের আর্যবীর। দুই বছর আগে কোচবিহার ট্রফিতে মেঘালয়ের বিরুদ্ধে ২৯৭ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে তিনি প্রথম সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। তারপর থেকে দিল্লির ঘরোয়া লিগ ও দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিকভাবে রান বানিয়ে জুনিয়র জাতীয় দলের দরজা খুলে ফেলেন তিনি।

অন্যদিকে, অন্বয় দ্রাবিড় দলে জায়গা করে নিয়েছেন একজন দক্ষ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে। কর্নাটকের ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ কিছু দিন ধরেই পরিচিত মুখ ১৭ বছরের এই তরুণ। স্কুল স্তর থেকে শুরু করে রাজ্য অনূর্ধ্ব-১৯ দল, প্রতিটি পদক্ষেপেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি বিনু মাঁকড় ট্রফিতে কর্নাটক অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও অন্বয় দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়েছেন। মিডল অর্ডারে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৬ ইনিংসে ২২০ রান সংগ্রাহক এই তরুণ হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ৮২ রানের একটি অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। বাবার মতো অন্বয়ও টেকনিক ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর ভর করে ইনিংস তৈরি করতে পছন্দ করেন।

ভারতীয় ক্রীড়াজগতে তারকাসন্তানদের ক্ষেত্রে প্রায়শই প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। তবে শেহওয়াগ কিংবা দ্রাবিড় কেউই তাঁদের ছেলেদের ক্রিকেটীয় যাত্রায় বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করেননি বা প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেননি। সম্পূর্ণ নিজেদের কায়িক পরিশ্রম ও মেধার জোরেই আর্যবীর ও অন্বয় আজ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলে স্থান করে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই ওয়ানডে সিরিজে সুযোগ পেলেও লাল বলের অর্থাৎ মাল্টি-ডে সিরিজের দলে অবশ্য তাঁদের রাখা হয়নি। সেখানে বাংলার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অভিপ্রায় বিশ্বাস স্থান পেয়েছেন।

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, লালা অমরনাথের পুত্র মহিন্দর অমরনাথের মতো দু-একজন ছাড়া সুনীল গাভাস্কর কিংবা শচীন তেন্ডুলকরের উত্তরসূরিরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাবার সাফল্যকে স্পর্শ করতে পারেননি। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মের এই দুই ক্রিকেটার নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে গোটা ক্রিকেট বিশ্বের।‌‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন