সমকালীন প্রতিবেদন : চোটের আঘাত, সাম্প্রতিক সময়ের ফর্মহীনতা এবং দল থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা– সব চাপ ও প্রতিকূলতাকে ব্যাটের জবাব দিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন ঋষভ পন্থ। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গল টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে যখন তীব্র ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল ভারতীয় দল, ঠিক তখনই নিজের স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দলের হাল ধরেন এই তারকা উইকেটকিপার-ব্যাটার। আর এই লড়াইয়ের পথেই আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে তৈরি হলো এক নতুন ইতিহাস।
প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ছক্কার ‘সেঞ্চুরি’ করার পাশাপাশি বল এবং ইনিংসের নিরিখে বিশ্বক্রিকেটে দ্রুততম ১০০টি ছক্কা হাঁকানোর অভূতপূর্ব বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেললেন ২৮ বছর বয়সি এই তারকা। চলতি টেস্ট ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অর্ধশতরানের কাছাকাছি গিয়েও হাতছাড়া করেছিলেন পন্থ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে গলের কঠিন পিচে আর কোনো ভুল করেননি তিনি।
৮টি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি এবং ২টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ৬৯ বলে ৬৬ রানের এক দায়িত্বশীল ও লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি। শ্রীলঙ্কান ফাস্ট বোলার লাহিরু কুমারার বলে তাঁর ট্রেডমার্ক স্টাইলে ছক্কা হাঁকিয়েই জীবনের ৫১তম টেস্ট ম্যাচের ৮৯তম ইনিংসে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। ভারতীয় হিসেবে এর আগে টেস্টে সর্বাধিক ছক্কা মারার রেকর্ড ছিল বীরেন্দ্র সেওয়াগ এবং রোহিত শর্মার দখলে– দুজনেই মেরেছিলেন ৯১টি করে ছক্কা। তাঁদের টপকে তালিকার শীর্ষে উঠে এলেন পন্থ।
বিশ্বক্রিকেটের ইতিহাসে এ যাবৎ মাত্র চারজন ব্যাটার টেস্টে ১০০ বা তার বেশি ছক্কা মারার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এই অভিজাত তালিকায় ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস (১৩৮টি ছক্কা), নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাকালাম (১০৭টি ছক্কা) এবং অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্টের (১০০টি ছক্কা) পরেই চতুর্থ স্থানে নাম লেখালেন ভারতীয় এই ব্যাটার।
তবে সবচেয়ে কম ইনিংসে ও কম বল খেলে এই ক্লাবে ঢোকার রেকর্ড শুধুই পন্থের। পন্থ মাত্র ৪৯১৮ বল খেলে ১০০টি ছক্কা পূর্ণ করেছেন। যেখানে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট নিয়েছিলেন ৬৫৭৮ বল, বেন স্টোকসের লেগেছিল ৯০৪২ বল এবং ব্রেন্ডন ম্যাকালাম খরচ করেছিলেন ৯৭৫৬ বল। অর্থাৎ প্রতি ৪৯.২ বলে একটি করে ছক্কা হাঁকিয়ে কার্যকারিতার দিক থেকে বিশ্বের সমস্ত কিংবদন্তিকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের প্রেক্ষাপটে পন্থের এই ইনিংসটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতীয় দলের সাতজন ব্যাটার একক অঙ্কের রানে সাজঘরে ফেরেন। দেবদত্ত পাডিক্কলের ৪৪ ও কেএল রাহুলের ৩৫ রানের পাশাপাশি পন্থের ৬৬ রানের সুবাদেই ভারত অলআউট হওয়ার আগে ১৯৩ রান তুলতে সক্ষম হয় এবং শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য ৩৭২ রানের কঠিন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
বর্তমান তালিকার অন্য তিন ক্রিকেটারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করায় পন্থের সামনে এখন টেস্টে সর্বকালের সর্বাধিক ছক্কার মালিক হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। পন্থের এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ও বিশ্বরেকর্ড কেবল ভারতীয় দলকেই সুবিধাজনক জায়গায় দাঁড় করায়নি, বরং টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অপরিহার্য অবস্থানকে আবারও শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করল।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন