Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

বনগাঁর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পোকা ধরা চাল সরবরাহ ঘিরে সরব ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা

 

Weevil-infested-rice

সমকালীন প্রতিবেদন : শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড়িয়ে গেল বনগাঁয়। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ছোটদের মিড-ডে মিলের জন্য দেওয়া চালের বস্তায় পচা ও পোকা ধরা দানা দেখা দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। ঘটনাটি বনগাঁ ব্লকের ৫৪ নম্বর সভাইপুর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। বুধবার সকালে সেন্টারে শিশুদের দুপুরের খাবার তৈরির জন্য তিন বস্তা চাল এসে পৌঁছাতেই ঘটনার সূত্রপাত। চালের বস্তাগুলি খুলতেই দেখা যায়, তার ভেতরে কিলবিল করছে অসংখ্য কালো পোকা। 

এমন নিকৃষ্টমানের ও পোকা ধরা চাল শিশুদের খাওয়ালে তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে‌– এই আশঙ্কায় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা একযোগে কেন্দ্রের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং অবিলম্বে এই চাল ফেরত নিয়ে নতুন পরিষ্কার চাল সরবরাহের জোরালো দাবি জানান। শুধু নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রীই নয়, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটির বেহাল ও বিপজ্জনক পরিকাঠামো নিয়েও ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত বাসিন্দারা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই কেন্দ্রে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন খুদে শিশু পড়াশোনা ও পুষ্টিকর খাবার খেতে আসে। কিন্তু কেন্দ্রটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে ভেতরে জল পড়তে থাকে, যার ফলে চরম বিপাকে পড়তে হয় কচিকাঁচাদের। উপরন্তু, প্রচণ্ড গরমেও চালানের জন্য নেই কোনো বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা। অস্বাস্থ্যকর ও প্রখর গরমের মধ্যেই বাধ্য হয়ে শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। অভিভাবকদের দাবি, এর আগে একাধিকবার স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনিক স্তরে বিষয়গুলি জানিয়েও আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

ঘটনা প্রসঙ্গে কেন্দ্রের রান্নার কর্মী জানান যে, আগে কখনো এই ধরনের পোকা ধরা চাল কেন্দ্রে আসেনি। প্রথমবার এমন চাল আসায় তাঁরাও বেশ চিন্তিত। তবে অতীতে সামান্য পোকা থাকলে তা ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করেই রান্না করা হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী (দিদিমণি) বিষয়টির দায় কিছুটা আবহাওয়া ও জায়গায় অভাবের ওপর চাপিয়েছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রে সরকারি চাল সুরক্ষিত রাখার মতো নির্দিষ্ট কোনো গুদামঘর বা পরিকাঠামো নেই। ফলে বাধ্য হয়ে চাল বহুদিন আগে এনে তাঁর নিজের বাড়িতে রাখতে হয়েছিল। 

বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণেই হয়তো চালে পোকা লেগেছে। তবে এই তিন বস্তা চাল সরাসরি না রেঁধে, লোক দিয়ে ভালো করে ঝেড়ে ও রোদে শুকিয়ে পরিষ্কার করেই শিশুদের পাতে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনিও স্বীকার করে নেন যে, বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে জল পড়ার কারণে কেন্দ্রটিতে শিশুদের নিয়ে পড়ালেখা করানো কিংবা রান্না করার কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সভাইপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যে কেন্দ্রে ছোট ছোট শিশুদের পুষ্টি ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য পাঠানো হয়, সেখানে কীভাবে এমন উদাসীনতা চলতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। এখন দেখার বিষয়, অভিভাবক ও স্থানীয়দের এই জোরালো প্রতিবাদের পর জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কবে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জীর্ণ দশা সংস্কার করে এবং শিশুদের জন্য গুণমানসম্পন্ন খাদ্য সুনিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন