সমকালীন প্রতিবেদন : হাবড়া থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন পাকিস্তানি আইএসআই চর রানা রউফকে জেরা করে একটার পর একটা বিস্ফোরক তথ্য উন্মোচন করছেন রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের গোয়েন্দারা। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে রানার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে নিজের 'দেশের সেবা' করার তাগিদ থেকেই পরবর্তীতে সে কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
পাকিস্তানের ফয়সলাবাদের বাসিন্দা রানা রউফ প্রথম ২০১২ সালে ব্যবসায়ী সেজে নেপালে এসে পৌঁছায়। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় মহম্মদ ইজাজ নামে তপসিয়ার এক বাসিন্দার। ইজাজের সহায়তায় রানা কলকাতায় পাড়ি দেয় এবং ইজাজের বাবার নাম ব্যবহার করে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে ফেলে। এমনকি সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলাকালীন ধরা পড়ার ভয়ে ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে, কলকাতায় অবস্থানকালে রানা ও তার সহযোগীরা দেশের অত্যন্ত স্পর্শকাতর সামরিক কেন্দ্র ফোর্ট উইলিয়াম এলাকায় রেইকি চালিয়েছিল।
গ্রেপ্তারির সময় নিজের ও সহযোগীদের পরিচয় আড়াল করতে রানা নিজের মোবাইলটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তার কাছে থাকা একটি গোপন নোটবুক থেকে এসটিএফ অন্তত ছয়জন আইএসআই এজেন্টের সন্ধান পেয়েছে। যাদের মধ্যে নেপালের পাঁচজন– কাশিফ, হানিফ চৌধুরী, সোহায়েল, জেডি ও হারুণ সফদার এবং বাংলাদেশের পাভেল নামের এক এজেন্ট রয়েছে।
তদন্তে প্রকাশ, কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ছাউনি, সীমান্ত অঞ্চলের বিএসএফ ক্যাম্প, ব্যস্ত রেল স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ রেললাইনের ছবি-ভিডিও বিশেষ একটি অ্যাপের মাধ্যমে নেপালের চর চক্রের কাছে পৌঁছে দিত রানা। এই সম্পূর্ণ ছকে তাকে সার্বিক সাহায্য করত তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজ।
জেরায় রানা আরও স্বীকার করেছে, হাবড়া হয়ে বনগাঁ সীমান্ত অতিক্রম করে তার বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার ছক ছিল। যশোরের ওপারে বাংলাদেশি এজেন্ট পাভেল তার জন্য নতুন মোবাইল নিয়ে অপেক্ষা করছিল, যা দিয়ে তারা পরবর্তীতে বড়সড় কোনো অন্তর্ঘাতের পরিকল্পনা করছিল। আপাতত এই আন্তর্জাতিক চরচক্রের শেকড় কত দূর বিস্তৃত, তা খুঁজে বের করতে পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন