Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

গোপালনগরে পণের দাবিতে গৃহবধূকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুনের অভিযোগ

 

Mysterious-death-of-housewife

সমকালীন প্রতিবেদন : বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক চাপ, তার ওপর দিনের পর দিন মারধর। শেষপর্যন্ত এক গৃহবধূকে পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলার মারাত্মক অভিযোগ উঠল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গোপালনগর থানার অন্তর্গত শুল্ক দুর্গাপুর এলাকায়। মৃতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে গোপালনগর থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে গোপালনগর থানার ভান্ডারখোলা গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে শুল্ক দুর্গাপুরের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর বিয়ে হয়। পরিবারের দাবি, বিয়ের সময় নিজেকে পুলিশ অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল প্রসেনজিৎ। সেই সময় মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে এব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার কেউ ছিল না। ফলে পাত্রের কাজকর্ম সম্পর্কে একপ্রকার অন্ধকারেই ছিলেন তাঁরা।

কিন্তু বিয়ের পর আসল সত্য সামনে আসে। জানা যায়, সে আদতে পুলিশের এক অস্থায়ী কর্মী। প্রতারণার এই সত্য সামনে আসার পর থেকেই শুরু হয় পারিবারিক অশান্তি। অভিযোগ, বাপের বাড়ি থেকে বাড়তি টাকা আনার জন্য ওই গৃহবধূর ওপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হত। টাকা দিতে অস্বীকার করলেই জুটত অমানুষিক মারধর। বাপের বাড়িতে এ কথা জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হত বলে অভিযোগ।

মৃতার পরিবার সূত্রে খবর, গত সোমবার রাতে ওই গৃহবধূর ওপর চরম অত্যাচার চালানো হয়। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি ফোনে নিজের মা ও ভাইকে বিষয়টি জানান। এরপর পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে ফের তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু বারবার ফোন করা সত্ত্বেও তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। পরদিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে পরিবারের কাছে খবর আসে ওই গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর।

খবর পেয়েই মৃতের বাপের বাড়ির লোকজন তড়িঘড়ি শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তাঁরা অভিযোগ তোলেন, নিছক মৃত্যু নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দিনের পর দিন নির্যাতনের পর ওই তরুণীকে বিপুল পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে গোপালনগর থানায় প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বনগাঁ আদালতের আইনজীবী সমীর দাস জানান, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন