সমকালীন প্রতিবেদন : সম্প্রতি কলকাতায় একটি হোটেল অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ার পরই রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে তৎপর হয়ে উঠেছে রাজ্য প্রশাসন। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে রাজ্যের সমস্ত দমকল বিভাগকে বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। এই নির্দেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন শহরের আবাসন ও হোটেলগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচলের পথগুলো সুরক্ষিত ও বাধামুক্ত কি না, তা অবিলম্বে পরিদর্শন ও খতিয়ে দেখতে হবে।
প্রশাসনের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছে বনগাঁ দমকল বিভাগ। সোমবার সকাল থেকেই বনগাঁ অঞ্চলের বিভিন্ন বহুতল আবাসন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ছোট-বড় হোটেলগুলোতে ঝটিকা অভিযানে নামেন দমকল আধিকারিকরা।
প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক আগুন নেভানোর প্রয়োজনীয় যন্ত্র বা 'ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার' রাখা আছে কি না এবং সেগুলো কর্মক্ষম অবস্থায় রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ যাতে দ্রুত বেরিয়ে আসতে পারেন, সে জন্য বহুতল ও হোটেলগুলোর সিঁড়ি এবং জরুরি নির্গমন পথগুলোতে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে কি না, তা দেখা হয়। কোনো বহুতলে আগুন লাগলে দমকলের ইঞ্জিন সহজেই পৌঁছাতে পারবে কি না, তার জন্য সংলগ্ন রাস্তাগুলোর প্রশস্ততা এবং সার্বিক পরিস্থিতি যাচাই করা হয়।
দমকল সূত্রের খবর, পরিদর্শনের সময় বেশ কিছু স্থানে ছোটখাটো গাফিলতি চোখে পড়ায় স্থানীয় ভবন মালিক ও হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সমস্ত সুরক্ষা প্রোটোকল মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিকাঠামোগত ত্রুটি দূর না করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।
বনগাঁ দমকল বিভাগের ওসি শুভময় মন্ডল জানান, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেষে আজ বনগাঁ এলাকার ২২টি হোটেল, হোমস্টে পরিদর্শন করে সেখানকার পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতিপত্র ঠিকঠাক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক আছে, যাদের কিছু সমস্যা আছে, তাদের কাগজপত্রগুলি দ্রুত ঠিক করে নেওয়ার কথা জানানো হলো।
অগ্নিকাণ্ডের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে আগামী দিনেও এই ধরণের নজরদারি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন