Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

চোটকে উড়িয়ে গ্যালারির ছাদে পন্থের ছক্কা! ভাঙল সোলার প্যানেল

 ‌

Rishabh-Pant

সমকালীন প্রতিবেদন : ‌শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে বাউন্সারের আঘাত সহ্য করতে না পেরে যন্ত্রণায় মাঠ ছেড়েছিলেন ঋষভ পন্থ। তবে সেই চোটের কাছে মাথা নোয়াতে রাজি নন ভারতের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। দ্বিতীয় দিনের সকালে হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে যখন তিনি ক্রিজে নামেন, তখন তাঁর খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা সংশয়। কিন্তু সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে পন্থ তুলে নিলেন এক অনন্য ও আক্রমণাত্মক অর্ধশতক, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি অভূতপূর্ব ছক্কার ঘটনা।

প্রথম দিন শ্রীলঙ্কার পেসার লাহিরু কুমারার বাউন্সারে কবজিতে চোট পেয়েছিলেন পন্থ। সেই একই অস্ত্র ব্যবহার করে দ্বিতীয় দিনেও পন্থকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। লাহিরু কুমারা এবং আসিথা ফার্নান্ডো একের পর এক শর্ট বল ও রাউন্ড দ্য উইকেট বোলিং চালিয়ে যান। কয়েকবার বল পন্থের শরীর ও হাতে লাগে, যার ফলে মাঠে নামতে হয় ফিজিওকে। পন্থকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও আইসপ্যাক দেওয়ার পর পুনরায় খেলা শুরু হলেও তাঁর আগ্রাসী মনোভাবে এতটুকু ভাঁটা পড়েনি।

ভারতের ইনিংসের ৯০তম ওভারে ঘটে সেই স্মরণীয় মুহূর্ত। লাহিরু কুমারার একটি শর্ট ডেলিভারিকে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে অসামান্য পুল শটে গ্যালারির বাইরে পাঠিয়ে দেন পন্থ। প্রায় ৯৫ মিটার দীর্ঘ এই শটের তোড়ে বলটি সটান গিয়ে পড়ে কলম্বো স্টেডিয়ামের ছাদে। সেখানে বসানো সৌরবিদ্যুতের (সোলার) প্যানেলে বলের সরাসরি আঘাতে একটি কাঁচের প্যানেল ফেটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টেলিভিশনের পর্দায় সেই ভাঙা সোলার প্যানেল বারবার দেখানো হতে থাকে। ছাদ পেরিয়ে বলটি হারিয়ে যাওয়ায় চতুর্থ আম্পায়ারিকে বাধ্য হয়ে নতুন বল এনে খেলা শুরু করতে হয়।

পন্থের এই অবিশ্বাস্য ছক্কা দেখে সাজঘরে বসে থাকা ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কান ফিল্ডাররাও বলের দূরত্ব দেখে তাজ্জব হয়ে যান। এত কাণ্ডের পরও পন্থ ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন একেবারেই নির্বিকার ভঙ্গিতে। অবশ্য কয়েক ওভার পর কুমারার আরেকটি বল ডান হাতে লাগলে ফের সামান্য অস্বস্তি দেখা দেয়, তবে ফিজিওর শুশ্রূষা নিয়ে আবারও ব্যাট হাতে লড়াই চালিয়ে যান তিনি।

প্রথম দিনের হতাশাজনক প্রস্থান ভুলে এদিন ৮৯ বলে ৬৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন পন্থ, যা সাজানো ছিল ৬টি চার ও ২টি বিশাল ছক্কায়। ৩০৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা ভারতীয় দলকে চাপমুক্ত করতে ধ্রুব জুরেলের (অপরাজিত ৫৯) সঙ্গে জুটি বেঁধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। দিনশেষে ৯ উইকেটে ৫০৩ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ভারতীয় দল। চোট উপেক্ষা করে পন্থের এমন বেপরোয়া ও লড়াকু মানসিকতা ক্রিকেট বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন