সমকালীন প্রতিবেদন : ভাঙড়ের আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়ে আইএসএফ ছাড়ার পরপরই বিধানসভায় নজর কাড়লেন প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম। সোমবার বিধানসভায় বিরোধীদের আসনে থাকা ‘নব্য তৃণমূল’ হিসেবে পরিচিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল। সে সময়ে তিনি জানান, তৃণমূলের জন্য প্রাণপাত করলেও সেখানে তাঁকে লাগাতার অপমানিত হতে হয়েছে। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই মোহভঙ্গ হয় তাঁর। আইএসএফের অন্দরমহলে "একনায়কতন্ত্র" চলছে এবং ভাঙড়জুড়ে লুম্পেনবাহিনী অত্যাচার চালাচ্ছে, এই অভিযোগ এনে সম্প্রতি দল ত্যাগ করেন তিনি।
সোমবার সকালে ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে নিজের ঘরে বসলে সেখানে আইএসএফ কর্মীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন আরাবুল। ‘চোর চোর’ স্লোগান, ধাওয়া ও ইট-পাথর ছোঁড়ার মতো ঘটনার পরপরই তিনি সোজা পৌঁছে যান বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে। সেখানে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সহ বহু প্রাক্তন ও বর্তমান তৃণমূল সমর্থিত নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে কালীঘাট শিবিরের প্রতি ক্ষোভ বজায় রেখে আরাবুল মন্তব্য করেন, "কালীঘাট তো আমার জন্য কিছুই করেনি।"
এই ঘটনার জেরে কুণাল ঘোষ স্পষ্টভাবে জানান যে, কে কোথায় যাচ্ছেন তা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কালীঘাট তৃণমূলের দরজা কিন্তু আর আগের মতো সহজে খুলবে না। দলছাড়ার পর আরাবুলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে নওশাদ বলেন, দল ছেড়েছেন বলেই চুপ থাকবেন না। কিছুটা কটাক্ষের সুরেই তিনি মন্তব্য করেন, গ্রামে কিছু প্রাণীর মুখে জাল বেঁধে রাখা হলেও তারা নোংরা জঞ্জালে মুখ দেয়, ঠিক তেমনই ঘটেছে।
বর্তমানে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং শওকত মোল্লা বনাম আরাবুল অনুগামীদের দীর্ঘদিনের দ্বন্দের আবহাওয়ায় আরাবুলের এই পদক্ষেপে ভাঙড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন