Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

আইপিএল নাকি অপরিকল্পিত লোড ম্যানেজমেন্ট? ভারতীয় তারকাদের ধারাবাহিক চোট ঘিরে প্রশ্নের মুখে সিও‌ই ও বোর্ড

 ‌

A series-of-injurie-of-Cricketers

সমকালীন প্রতিবেদন : ভারতীয় জাতীয় দলের একের পর এক প্রথম সারির ক্রিকেটার চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় উথালপাথাল ক্রিকেট মহল। জশপ্রীত বুমরা, হর্ষিত রানা কিংবা নীতীশ কুমার রেড্ডি‌– ক্রমবর্ধমান চোটের তালিকা ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্স নিয়ে বড়সর চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বোর্ড কর্তাদের কপালে। বেঙ্গালুরুর 'সেন্টার অফ এক্সেলেন্স' (সিওই)-এর দায়িত্বে থাকা ভিভিএস লক্ষ্মণ এবং তাঁর দলের ভূমিকা নিয়ে যখন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমালোচনার ঝড় উঠছে, ঠিক তখনই পাল্টা বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সামনে এল সিওই কর্তৃপক্ষ। তাদের স্পষ্ট দাবি, দেশের শীর্ষ তারকাদের এই ঘন ঘন চোটের আসল খলনায়ক কোটি টাকার টুর্নামেন্ট আইপিএল।

সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের সূত্রের খবর, ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত ম্যাচ খেলাই এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। সিওইর এক পদাধিকারী নাম গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন যে, আইপিএল চলাকালীন সামান্য চোট বা শারীরিক অস্বস্তি থাকলেও তীব্র ব্যবসায়িক ও দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি চাপের মুখে পড়ে খেলোয়াড়রা মাঠে নামতে বাধ্য হন। 

ভবিষ্যতের মারাত্মক ঝুঁকির কথা বেমালুম ভুলে কেবল বর্তমানের মেগা টুর্নামেন্ট শেষ করাই তাঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হতে না হতেই সেইসব চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারদের সম্পূর্ণ ফিট করে তোলার দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয় সিওইর ফিজিওদের ওপর। এর ফলে পরবর্তী জাতীয় দলের দল নির্বাচন এবং কোচ ও অধিনায়কের পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে কেবল আইপিএলকে দায়ী করেই দায় এড়াতে পারছে না সিওই বা জাতীয় দলের মেডিক্যাল টিম। নীতিন প্যাটেলের বিদায়ের পর সিওইর স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের প্রধান হিসেবে এখনও স্থায়ী কাউকে নিয়োগ করা হয়নি; বর্তমানে ধনঞ্জয় কৌশিক অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সমস্যা হচ্ছে ক্রিকেটারদের সুস্থ করে পুনরায় মাঠে ফেরানোর নির্ধারিত ‘রিটার্ন টু প্লে’ প্রোটোকল যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না তা নিয়ে। 

একইসঙ্গে জাতীয় দলের ফিজিও কমলেশ জৈনের কার্যকারিতা নিয়েও জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, খুব শীঘ্রই কমলেশ জৈনের কাজ পর্যালোচনা করতে রিভিউ বৈঠকে বসতে চলেছে বিসিসিআই। মেডিক্যাল টিমের কাজের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। শ্রীলঙ্কা সফরের ঠিক আগেই বুমরাকে সম্পূর্ণ 'ফিট' বলে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। 

কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, দল ঘোষণার মাত্র দু'দিনের মাথায় তাঁকে আবার মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠছে, এক দু'দিনের মধ্যে কীভাবে একজন ক্রিকেটার সম্পূর্ণ ফিটনেস থেকে পুনরায় চোটগ্রস্ত হয়ে পড়েন? একইভাবে, অতিরিক্ত ওজন থাকা সত্ত্বেও হর্ষিত রানাকে ফিট ঘোষণা করার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন। ওয়াশিংটন সুন্দরের ধারাবাহিক চোটের ইতিহাসও একই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

সব মিলিয়ে, আইপিএলের অতিরিক্ত ধকল আর বিসিসিআইয়ের মেডিক্যাল টিমের তড়িঘড়ি ফিটনেস ছাড়পত্র দেওয়ার প্রবণতা– এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষে যাচ্ছেন ভারতের জাতীয় স্তরের ক্রিকেটাররা। এখন দেখার, আসন্ন পর্যালোচনা বৈঠকে বিসিসিআই এই চোট-সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান বের করতে পারে কি না।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন