Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতিতে অচল বনগাঁ, সমস্যা সমাধানের আশ্বাস

 ‌

Work-stoppage-0f-Sanitation-workers

সমকালীন প্রতিবেদন : বকেয়া বেতন বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে সকাল থেকেই কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে শামিল হলেন বনগাঁ পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা। সাফাই কর্মীদের এই আন্দোলনের জেরে এদিন সকাল থেকেই পুরসভার বিভিন্ন এলাকায় পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা প্রথমে কর্মতীর্থের সামনে এবং নীলদর্পণ হলের পাশে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরবর্তীতে বেলা ১০টার পর বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে বনগাঁ পুরসভার মূল গেটের সামনে এসে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং অচলাবস্থা কাটাতে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন হাবরার বিধায়ক তথা বনগাঁ পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডল। আন্দোলনরত কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনাদের কাছে আমার হাতজোড় করে অনুরোধ, দয়া করে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করবেন না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আপনাদের সময় অনুযায়ী, আপনাদের সাথে বসেই এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র বের করব।" বিধায়কের এই আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা কিছুটা শান্ত হন।

আন্দোলনকারী সাফাই কর্মীদের দাবি, তারা করোনার সময় জীবন বাজি রেখে পরিষেবা দিয়েছেন। সারা বছর তারা একটানা পরিষেবা দেন। কিন্তু তাদের বেতন বৃদ্ধি বা স্থায়ী করার বিষয়ে পুরসভা কোনও উদ্যোগ নিচ্ছে না। তাই তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি না মিটলে, এরপর তারা দীর্ঘ আন্দোলনের পথে যাবেন।

এব্যাপারে দেবদাস মন্ডল বলেন, সাফাইকর্মীদের এই আন্দোলন ন্যায়সঙ্গত। ওদের এই আন্দোনে আমার নৈতিক সমর্থন আছে। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে আগে যারা পুরসভার প্রধান হয়েছেন, তাঁরা এই কর্মীদের চাকরি বিক্রি করেছেন। কোনওদিন তাদের স্থায়ী করা বা বেতন বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করে নি।

অন্য দিকে, এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বনগাঁ পুরসভার প্রধান দিলীপ মজুমদার জানান, "গত রাতেই অস্থায়ী সাফাই কর্মীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমার দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও আজ সকাল থেকে এই আন্দোলনের পেছনে কোনো বড় শক্তির ইন্ধন বা চক্রান্ত রয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে।"

পুরপ্রধান আরও জানান যে, সাফাই কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই বর্তমান সরকারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। এমনকি বিষয়টি স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া মহাশয়কেও সবিস্তারে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষস্তরের আশ্বাসের পর এবার সাফাই কর্মীরা কাজে ফেরেন কি না, এখন সেটাই দেখার।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন