সমকালীন প্রতিবেদন : রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর কূটনৈতিক জটিলতার আবহে ফের কি ক্রিকেট পিচে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও বাংলাদেশ? চার বছর আগে শেষবার বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ভারতের পদ্মাপারে যাওয়ার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সেই সফর বাতিল হয়ে যায়। তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই স্থগিত সিরিজটি আয়োজন করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই সিরিজের স্বার্থে ভারতের আফগানিস্তান সফরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কিন্তু আশার আলোর পাশাপাশি এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক নতুন জটিলতা।
মূলত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একাংশের তীব্র ভারত-বিরোধী অবস্থানের কারণেই দুই দেশের ক্রিকেটীয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কার্যত থমকে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপে বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে, দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি ভারত সরকার পুনরায় বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে। দিল্লির এই নরম মনোভাবের পরই ঘরের মাঠে টিম ইন্ডিয়াকে স্বাগত জানাতে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে বিসিবি। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ আয়োজন করতে চাইছে তারা।
এই সফরের সপক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে আইসিসি-র বৈঠকেও। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি-র বৈঠকে এই সিরিজ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের একটি সিরিজ নির্ধারিত রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশ সফর চূড়ান্ত হলে আফগান সিরিজটি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিসিবি-র এক উচ্চপদস্থ কর্তা ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "আমরা এই সফর নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। বিসিসিআই এখনও চূড়ান্ত সবুজ সংকেত না দিলেও, তারা আসবে না— এমন নেতিবাচক কথাও বলেনি। আমরা একটি ইতিবাচক সাড়ার অপেক্ষায় রয়েছি।"
সিরিজ আয়োজনের তোড়জোড় চললেও এর মধ্যেই তৈরি হয়েছে এক নতুন বিপত্তি। জুলাই মাসের শুরুতে বিসিবি আচমকাই এই সিরিজের মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। কিন্তু ক্রীড়া সংবাদসংস্থা ‘ক্রিকবাজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ করেই সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করে দিয়েছে বাংলাদেশ বোর্ড। চূড়ান্ত আগ্রহপত্রও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ম্যাচ সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা সম্ভাব্য ভারতীয় স্যাটেলাইট চ্যানেল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি চরম সংশয়ে পড়েছে।
ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, বিসিসিআই-এর সাথে আগাম আলোচনা না করেই বিসিবি এককভাবে মিডিয়া স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ভারতীয় বোর্ড। এই টানাপোড়েনের কারণে সিরিজটি আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে এখনও ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা মিলছে না।
ভবিষ্যত সূচি অনুযায়ী, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে বাংলাদেশে ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মেগা টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি এবং দুই দেশের ক্রিকেটীয় ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বিসিসিআই শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ সফরের সবুজ সংকেত দিতেই পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, সমস্ত রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক জটিলতা কাটিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে সত্যিই টিম ইন্ডিয়া পদ্মাপারে পাড়ি জমায় কি না।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন