Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাদ ১৫ বছরের বৈভব

 

Vaibhav-dropped-from-T20s

সমকালীন প্রতিবেদন : শনিবার সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের শেষ তথা চূড়ান্ত ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিল ভারত। তবে টস ভাগ্য ভারতের পক্ষে গেলেও, টিম ম্যানেজমেন্টের প্রথম একাদশ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। সাউথ্যাম্পটনের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ভারতীয় দলে একাধিক বড় রদবদল ঘটানো হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হলো—বিস্ময় কিশোর বৈভব সূর্যবংশীকে দল থেকে ছেঁটে ফেলা। 

ভারতের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়ে নজির গড়া এই ১৫ বছর বয়সী তরুণ বাঁহাতি ওপেনারকে মাত্র তিন ম্যাচের ব্যর্থতার পরেই বসিয়ে দেওয়া হলো রিজার্ভ বেঞ্চে। তারুণ্যের জোয়ারে ধাক্কা দিয়ে এই ডু-অর-ডাই ম্যাচে ভারতীয় শিবিরে অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখা হয়েছে। টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থ বৈভবের পরিবর্তে দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসনকে। এছাড়া স্পিন বিভাগ ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং মজবুত করতে বোলিং অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দরের জায়গায় প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়েছে সূর্যাংশ শেদগেকে।

চলতি সিরিজে বৈভব সূর্যবংশীকে খেলানো এবং মাত্র তিন ম্যাচ পরেই হুট করে বসিয়ে দেওয়া– উভয় সিদ্ধান্ত নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে জোর গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিষেক সিরিজে এই তরুণ বাঁহাতি ব্যাটারের পারফরম্যান্স যদি পরিসংখ্যানের আতশকাচের তলায় রাখা হয়, তবে দেখা যাবে প্রথম তিন ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ছিল যথাক্রমে ১০ বলে ১৪, ৫ বলে ১৩ এবং ১০ বলে ১৫ রান। প্রতিটি ম্যাচেই ক্রিজে এসে স্বভাবসুলভ মারকুটে ব্যাটিংয়ে দারুণ এবং ঝোড়ো শুরু করেছিলেন এই কিশোর। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরের অভিজ্ঞ বোলারদের ফাঁদে পা দিয়ে ইনিংসকে বড় স্কোরে রূপান্তর করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন তিনি।

ভাল শুরু করেও বারবার উইকেট উপহার দিয়ে আসায় স্বাভাবিকভাবেই বৈভবের ওপর মানসিক চাপ বাড়ছিল। তবে প্রশ্ন উঠেছে ম্যানেজমেন্টের দূরদর্শিতা নিয়ে। অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটারই প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের আঙিনা থেকে সরাসরি তুলে এনে, আন্তর্জাতিক মঞ্চের এই বিপুল চাপের মুখে কেন তাড়াহুড়ো করে এই কিশোরকে নামিয়ে দিলেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও থিঙ্ক ট্যাঙ্ক? এখন আবার মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলিয়েই তাঁকে যেভাবে বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়া হলো, তাতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের ক্ষোভ ও বিস্ময় আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

সমালোচক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র ১৫ বছর বয়সী একজন কিশোর ক্রিকেটারের কেরিয়ারের একদম শুরুতে এই ধরণের চরম সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হতে পারে। মাত্র ৩ ম্যাচ দেখে কাউকে ব্যর্থ তকমা দিয়ে হুট করে দল থেকে বাদ দিলে বৈভবের মনে চরম হতাশা তৈরি হতে পারে। এই বয়সে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার ধাক্কা সহ্য করা কঠিন, যা তরুণ এই প্রতিভার আত্মবিশ্বাসে বড়সড় ঘাটতি তৈরি করতে পারে এবং তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন।

যদিও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এই পরিবর্তনকে নেহাতই ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে দলের রণকৌশল এবং সিরিজ জয়ের সমীকরণ হিসেবেই দেখছে। তবে ক্রিকেট মহলের একাংশের দাবি, কেরিয়ারের শুরুতেই এই তরুণ তুর্কির মানসিক অবস্থা সামাল দেওয়া, তাঁকে হতাশা থেকে বের করে আনা এবং আগলে রাখা এখন কোচ গৌতম গম্ভীর ও তাঁর সাপোর্টিং স্টাফদের জন্য সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।‌




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন