সমকালীন প্রতিবেদন : ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এক সোনালী যুগের অবসান দেখল ভারতীয় ক্রিকেট মহল। যে টি-টোয়েন্টি দলকে রাহুল দ্রাবিড় তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন, এবং রোহিত-বিরাট অধ্যায়ের পর সূর্যকুমার যাদব সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই দলই এবার চরম বিপর্যয়ের মুখে। গৌতম গম্ভীরের কোচিং ও শ্রেয়স আয়ারের অধিনায়কত্বে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে চার বছর ধরে ধরে রাখা আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান খোয়াল বিশ্বজয়ী টিম ইন্ডিয়া। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরপর দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক লজ্জাজনক রেকর্ড তৈরি হলো।
আয়ারল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ হারের পর ইংল্যান্ড সফরটি ভারতীয় দলের কাছে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন হয়ে রইল। সাউদাম্পটনের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের সামনে অন্তত সম্মান রক্ষার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেখানেও ব্যাটে-বলে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিল গম্ভীর-বাহিনী। ম্যাচে পুরো দাপট দেখিয়ে ইংল্যান্ড ৫৬ রানে ভারতকে পরাজিত করে। ফলে হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দল ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়।
প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে না গেলে ভারতের পরাজয়ের ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। এই সিরিজ জয়ের হাত ধরেই ভারতকে সিংহাসনচ্যুত করে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এলো ইংল্যান্ড। নতুন র্যাঙ্কিংয়ে ২৬৮ রেটিং নিয়ে ইংল্যান্ড প্রথম এবং সমসংখ্যক রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ভারত দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে। দীর্ঘ ১৬০৫ দিন (চার বছরেরও বেশি সময়) পর ভারত এই শীর্ষস্থান হারাল।
বিশ্বকাপ জয়ের পর ফর্মের কারণ দেখিয়ে সফল অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে সরিয়ে 'বহিরাগত' শ্রেয়স আয়ারের হাতে নেতৃত্বের ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ছয়টি ম্যাচেই হেরে চরম চাপে পড়েছেন শ্রেয়স। যেখানে সূর্যকুমার যাদব অধিনায়ক হিসেবে একটিও সিরিজ হারেননি এবং দেশকে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ এনে দিয়েছিলেন, সেখানে শ্রেয়সের এই পারফরম্যান্স সমর্থকেরা সহজে মেনে নিতে পারছেন না।
ম্যাচ শেষে অবশ্য ভারতের নতুন অধিনায়ক দলের ভুলত্রুটি মেনে নিয়ে একে 'শিক্ষার প্রক্রিয়া' বলে অভিহিত করেছেন। শ্রেয়স জানান, বিদেশের মাটিতে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতা এবং পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত উইকেট হারানোই তাঁদের ডুবিয়েছে। ক্যাচ ফেলার খেসারত হিসেবে প্রতিপক্ষ বড় রান তুলেছে এবং ব্যাটাররা উইকেটের চরিত্র না বুঝে প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এই পতন শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যানের অবনতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের জটিল অঙ্ক। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি মহাদেশের শীর্ষস্থানীয় দল অলিম্পিকের ছাড়পত্র পাবে। ভারত দ্বিতীয় স্থানে পিছিয়ে গেলেও স্বস্তির বিষয় এই যে, এশিয়া মহাদেশের দলগুলির মধ্যে তারা এখনও সবার ওপরে রয়েছে (পাকিস্তান ২৪০ রেটিং নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে)।
তবে অলিম্পিকের টিকিট হাতে থাকলেও শ্রেয়স আয়ার ও কোচ গৌতম গম্ভীরের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। দলের এই ভঙ্গুর দশা এবং ক্রিকেটারদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব দূর করে টিম ইন্ডিয়া কীভাবে দ্রুত জয়ের সরণিতে ফেরে, এখন সেটাই দেখার।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন