সমকালীন প্রতিবেদন : অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন এলাকার মহিলারা। মঙ্গলবার বনগাঁয় বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি বনগাঁ-বাগদা সড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। এর ফলে ওই সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, যোজনার সুবিধা বিতরণে চরম স্বজনপোষণ ও পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র পরিচিত ও নির্দিষ্ট দলীয় লোকজনদেরই আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে, অথচ তাঁদের আবেদনপত্র অন্যায়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এক বিক্ষোভকারী মহিলা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা মাছ পাহারা দিতে বিড়ালকে দায়িত্ব দিয়েছি। অফিসগুলোতে এখনও তৃণমূলের লোকজন কাজ করছে। তারাই বেছে বেছে তৃণমূল সমর্থকদের টাকা পাইয়ে দিচ্ছে।”
মহিলারা আরও জানান, সবাই কি ফর্ম পূরণে ভুল করেছে? যদি সত্যিই সবার আবেদন অযোগ্য হতো, তাহলে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু কারও কারও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে, আবার অনেকেরই ঢুকছে না। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে।
বিডিও অফিসে অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমদিকে কোনো সদুত্তর মেলেনি বলে মহিলারা জানিয়েছেন। পরে আধিকারিকরা আবেদনের অনলাইন কপির হার্ড কপি জমা দিতে বললে বিক্ষোভকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তো আগেই ফর্ম জমা দিয়েছিলাম। সেগুলো নিয়ে বস্তাবন্দি করে ফেলে রাখা হয়েছে।”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় বনগাঁ থানার আইসি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর পুলিশের পক্ষ থেকে উপযুক্ত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অবশেষে মহিলারা সড়ক অবরোধ তুলে নেন এবং বিডিও অফিসের সামনে থেকে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যোজনার সুবিধা বিতরণে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে স্থানীয় মহিলাদের মধ্যে ক্ষোভ বজায় রয়েছে। এই ধরনের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে তা সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পের উদ্দেশ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন