সমকালীন প্রতিবেদন : রাজ্যজুড়ে আবহাওয়ার ব্যাপক রদবদলের পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী নিম্নচাপ অক্ষরেখা এই মুহূর্তে পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের উপর দিয়ে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে হু হু করে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। যার জেরে উত্তর ও দক্ষিণ– দুই বঙ্গে আগামী কয়েক দিন বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে বৃষ্টির স্থায়িত্ব কম হলে, বাকি সময়ে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার কারণে চরম অস্বস্তি বজায় থাকবে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, আগামী তিন দিন সমুদ্র উত্তাল থাকতে পারে। বঙ্গোপসাগরে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার, এমনকি কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই কারণে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সপ্তাহের বাকি দিনগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় আগামী সোমবার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির জন্য 'কমলা সতর্কতা' জারি করা হয়েছে।
আজ জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিপাতের চরম আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহার জেলাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
শুক্রবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং কালিম্পঙে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শুক্র ও শনিবার উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সাত দিনই উত্তরের সব জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইবে। তবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে এখনই তাপমাত্রার বড় কোনো হেরফের হবে না।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া এখনই পুরোপুরি শান্ত হচ্ছে না। আজ, বৃহস্পতিবারও বেশ কিছু জেলায় গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া চরমে উঠবে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ছুঁতে পারে। তবে দুপুরের পর পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়া দফতরের দেওয়া দিনভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। এর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেও তুলনামূলক বেশি ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।
শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। এই দিনও বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ঝড়বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত মেঘলা বা আংশিক মেঘলা থাকবে। যার ফলে আগামী দুই দিনে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে গরম কিছুটা কমতে পারে এবং পারদ ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকছে।
কলকাতা এবং হাওড়া জেলায় এই মুহূর্তে ভারী বা অতি ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা– এই চার জেলা বাদে শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের বাকি সমস্ত জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন