Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

টানা দ্বিতীয়বার খেতাব জয়ের পর কিং কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা সিইও-র

 ‌

King-Kohli

সমকালীন প্রতিবেদন : বিরাট কোহলি এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)– ভারতীয় ক্রিকেটে এই দুটি নাম যেন একে অপরের পরিপূরক। দীর্ঘ ১৮ বছরের এক নিবিড় আবেগের বন্ধনে আবদ্ধ তাঁরা। সম্প্রতি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চোটের কারণে বিরাট কোহলি দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় ক্রিকেট মহলে একটি প্রশ্ন বেশ জোরোলো হয়ে উঠেছে– আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে তাঁকে? নাকি এবার আইপিএল-এর আঙিনা থেকেও চিরতরে বিদায় নিতে চলেছেন আধুনিক ক্রিকেটের এই মহানায়ক? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বিরাটকে মাঠে টেনে আনে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর নিখাদ ভালোবাসা, কোনো কিছু প্রমাণ করার তাগিদ তাঁর আর নেই। এই জল্পনার মাঝেই আরসিবি-র সিইও রাজেশ মেনন বিরাটকে নিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।

একটি সাক্ষাৎকারে রাজেশ মেনন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরেও আরসিবি-র সঙ্গে বিরাটের সম্পর্ক ছিন্ন হবে না। মেননের কথায়, "বিরাট কোহলি এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আইপিএল-এর সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত বিরাটই আরসিবি-র সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন এবং প্রধান মুখ। মাঠের ভেতরে কিংবা বাইরে– কোহলিকে ছাড়া আরসিবি-র অস্তিত্ব বা পরিচয় ভাবাই অসম্ভব।"

তিনি আরও যোগ করেন যে, কোহলি যেদিনই ক্রিকেটকে বিদায় জানান না কেন, আরসিবি পরিবার থেকে তিনি কখনো দূরে যাবেন না। অবসরের পরেও ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে তাঁর আত্মিক যোগাযোগ অটুট থাকবে।

সব জল্পনা আর সমালোচনার জবাব মাঠেই দিতে ভালোবাসেন কোহলি। জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে ফের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হলো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল খেতাব ঘরে তুলল বেঙ্গালুরু। আর এই মেগা ফাইনালের একমাত্র নায়ক আর কেউ নন, স্বয়ং বিরাট কোহলি।

দল যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এই ‘কিং কোহলি’। বর্তমানে দলের অফিশিয়াল অধিনায়ক না হলেও, আরসিবি-র আসল চালিকাশক্তি এবং হৃৎপিণ্ড যে তিনিই, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। ফাইনালে তাঁর খেলা ৪২ বলে বিধ্বংসী ৭৫ রানের ইনিংসের ওপর ভর করেই ট্রফি ধরে রাখল আরসিবি। গত বছর দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু, আর এবার টানা দু-বছরে দুটি ট্রফি জিতে আইপিএল-এ নিজেদের আধিপত্য কায়েম করল তারা।

বিরাটের ফিটনেস এবং ফর্ম দেখে আরসিবি সিইও রাজেশ মেনন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী যে, কোহলি এখনই থামছেন না। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত ও আগামী অন্তত তিন থেকে চার বছর অনায়াসে খেলা চালিয়ে যাবে। ও দারুণ ফিট এবং সবচেয়ে বড় কথা, রানের জন্য ওর খিদে আজও অপরিসীম। এবারের আইপিএল-এ ওর ছন্দ এবং রান করার ধরণ আমরা সবাই দেখেছি। তাই আগামী কয়েক বছর খেলা ওর পক্ষে কোনো বড় বিষয়ই নয়।”

২০২৬-এর এই সফল ক্রিকেট মরশুম শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (টুইটার)-এ নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিরাট। একটি পোস্টে তিনি লেখেন: “এক বুক বিশ্বাস নিয়ে মরশুমটা শুরু করেছিলাম, আর পরপর দুটি শিরোপা জিতে তা শেষ করলাম। এই দলটা সব ধরণের আবেগ একসঙ্গে অনুভব করেছে। অনেক বাধাবিপত্তি এবং চাপ সামলে আমরা আবারও সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছি। এই সাফল্যের পর আরও বেশি করে মনে হচ্ছে– আরসিবি-ই আমার আসল ঘরবাড়ি।”

এবারের আইপিএল মরশুমে বিরাটের ব্যাট কথা বলেছে চেনা ছন্দে। টুর্নামেন্টের ১৬টি ম্যাচে প্রায় ১৬৬ স্ট্রাইক রেট এবং ৫৬.২৫-এর চোখধাঁধানো গড়ে তিনি মোট ৬৭৫ রান করেছেন। শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেই নয়, দেশের জার্সিতেও গত বছর তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অতিমানবীয়। গত বছর খেলা ১৩টি ওয়ানডে ম্যাচে ৩টি সেঞ্চুরি এবং ৪টি হাফসেঞ্চুরিসহ মোট ৬৫১ রান করেছিলেন কোহলি। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে, বয়স বাড়লেও ব্যাটের ধার এবং মাঠে বিরাটের দাপট আজও বিন্দুমাত্র কমেনি। আরসিবি ভক্তদের আশা, এই কিংবদন্তি আরও বহু বছর মাতিয়ে রাখবেন বাইশ গজগজ।‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন