Breaking

Post Top Ad

Your Ad Spot

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

আইপিএলে রানের সুনামি, বোলারদের বাঁচাতে ‘বিপ্লবী’ নিয়ম বদলের প্রস্তাব সুনীল গাভাসকরের

 ‌

Proposal-to-Change-Rules-in-IPL

সমকালীন প্রতিবেদন : চলতি আইপিএলে ব্যাটারদের দাপটে বোলাররা কার্যত কোণঠাসা। প্রতিযোগিতার প্রথম ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে ৪৪টিতেই স্কোরবোর্ড ২০০ রানের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। চার-ছক্কার এই বন্যায় যখন বোলারদের অসহায় আত্মসমর্পণ করতে দেখা যাচ্ছে, ঠিক তখনই তাঁদের ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর। ক্রিকেটের ব্যাকরণ মেনে চলা এই প্রাক্তন অধিনায়ক বোলারদের লড়াইয়ে ফেরাতে আইপিএলের একটি মৌলিক নিয়ম বদলের সওয়াল করেছেন।

গাভাসকরের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ক্রমেই ‘ব্যাটিং সর্বস্ব’ হয়ে উঠছে। মাঠের ছোট সীমানা আর কিউরেটরদের তৈরি ব্যাটিং-সহায়ক পিচে বোলারদের কার্যত দিশেহারা অবস্থা। নিজের কলামে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি একজন ব্যাটার পুরো ২০ ওভার মাঠে টিকে থেকে ব্যাটিং করার সুযোগ পান, তবে একজন বোলার কেন মাত্র ৪ ওভারেই সীমাবদ্ধ থাকবেন?”

তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, বোলারদের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে তাঁদের নির্ধারিত ওভারের বাইরেও বল করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, বোলাররা যখন পিচে আগুন ঝরান, তখন নিয়মের বেড়াজালে তাঁদের আটকে রাখা খেলার রোমাঞ্চ কমিয়ে দেয়।

বোলারদের উৎসাহিত করতে গাভাসকর এক অভিনব ‘শর্ত’ বা রিওয়ার্ড সিস্টেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি কোনো বোলার ভালো পারফরম্যান্স করেন– যেমন নির্ধারিত ৪ ওভারে অন্তত তিনটি উইকেট দখল করেন, তবে তাঁকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে আরও একটি অতিরিক্ত ওভার করার অনুমতি দেওয়া উচিত।

গাভাসকরের যুক্তি হলো, এতে উইকেট নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। বর্তমান নিয়মে অনেক সময় বোলাররা কেবল রান আটকানোর চেষ্টা করেন। নিয়ম বদলালে তাঁরা উইকেট নেওয়ার জন্য মরিয়া হবেন, কারণ উইকেটই হলো শ্রেষ্ঠ ‘ডট বল’। এর পাশাপাশি, যদি তিনজন বোলার তিনটি করে উইকেট পান, তবে তাঁরা প্রত্যেকেই একটি করে অতিরিক্ত ওভার পাবেন। এতে অধিনায়কের হাতে তাঁর সেরা অস্ত্রকে ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে।

গাভাসকর তাঁর দাবির সপক্ষে ভুবনেশ্বর কুমারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের উদাহরণ টেনেছেন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৪ উইকেট নেওয়া ভুবনেশ্বরের যদি আরও একটি ওভার করার ক্ষমতা থাকত, তবে ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারত। একইভাবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অন্য একটি ম্যাচে তরুণ বোলারদের ব্যর্থতার প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি। গাভাসকরের দাবি, অভিজ্ঞ করবিন বশ যদি তাঁর ৪ উইকেটের সুবাদে পঞ্চম ওভারটি করার সুযোগ পেতেন, তবে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ অন্যরকম হতে পারত।

প্রযুক্তির ব্যবহার (যেমন ডিআরএস-এ ওয়াইড ও নো বল চেক) এবং ছোট মাঠের সুবিধা নিয়ে ব্যাটাররা যখন লাভবান হচ্ছেন, তখন বোলারদেরও বাড়তি শক্তি জোগানো সময়ের দাবি। তবে এই আমূল পরিবর্তন সরাসরি আইপিএলে প্রয়োগ না করে ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট, যেমন সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, গাভাসকরের এই প্রস্তাব গৃহীত হলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ব্যাটার ও বোলারদের মধ্যে ভারসাম্যের এক নতুন ভারসাম্য তৈরি হবে এবং দর্শকদের জন্য খেলাটি আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে। এখন দেখার, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কিংবদন্তির এই ‘বিপ্লবী’ ভাবনাকে কতটা গুরুত্ব দেয়।‌‌



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন