সমকালীন প্রতিবেদন : তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমের মাঝেই দেশবাসীর জন্য স্বস্তির খবর শোনাল ভারতের মৌসম ভবন (আইএমডি)। নির্ধারিত সময়ের অন্তত ছয় দিন আগেই ভারতের মূল ভূখণ্ড কেরলে প্রবেশ করতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৬ মে কেরলে বর্ষা আছড়ে পড়বে। তার আগে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অর্থাৎ ১৬ মে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটছে, যার জেরে সেখানে ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা ঢোকার কথা থাকে। তবে গত কয়েক বছর ধরেই এই নিয়মের ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে ৩০ মে এবং ২০২৫ সালে ২৪ মে দেশে বর্ষা প্রবেশ করেছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আন্দামানে মৌসুমী বায়ুর এই আগাম সক্রিয়তা দেশের মূল ভূখণ্ডে দ্রুত বর্ষা আসার পথ প্রশস্ত করছে।
এদিকে দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষার আগমন বার্তা মেলার মাঝেই খাস বাংলায় আবহাওয়ার ভোলবদলের পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলায় বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে। উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার কিছু অংশে বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি হলেও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এখনই গরম থেকে পুরোপুরি রেহাই মিলছে না। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি ও তাপমাত্রা দুই-ই ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।
কলকাতার ক্ষেত্রে আকাশ মূলত আংশিক মেঘলা থাকবে। মহানগরে বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার হলেও ভারী বা টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা আপাতত কম। ফলে তিলোত্তমায় তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ বজায় থাকবে বলেই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন